রাজধানীতে জমজমাট শেষদিনের কোরবানির পশুর হাট। ৭৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরুতেই ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
হাতে সময় নেই। তাই শেষ সময়ে কোরবানির গরু নিয়ে চলছে দর কষাকষি। শেষ দিনে গরুর দাম না কমায় বিপাকে পড়েন ক্রেতারা।
তাই ঈদের আগের দিন শনিবার রাজধানীতে পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে ৮০ থেকে দেড় লাখ টাকার গরু ছিলো চাহিদার শীর্ষে। ৬০ থেকে ৭০ হাজারেও মিলেছে দেশি গরু।
রাজধানীর সব হাটেই উপচে পড়া ভিড়। পশুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ক্রেতারা। তারা বলছেন, গরুর দাম অনেক বেশি। বাজেট ছাড়িয়ে গেছে।
বিক্রেতারা জানান, এবার দেশি গরুর বেচাকেনা বেশি। ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে দেশি জাতের মাঝারি গরুর বিক্রি হচ্ছে বেশি।
মাঝারি আর ছোট গরুর চাহিদা থাকলেও বড় গরু নিয়ে বেসামাল বেপারিরা। পাঁচ লাখ টাকার গরুর দাম উঠছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
তবে পছন্দের গরু পেয়ে অনেকেই আবার হাসি মুখে বাড়ি ফিরেছেন। সবগুলো হাটেই বেচাকেনা চলছে ধুম তালে। ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
গাবতলীর মূল হাট ছাড়িয়ে চারপাশের সড়কের ওপরেও সারি সারি পশু নিয়ে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে আছেন। হাটে যথেষ্ট পশুর সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতার উপস্থিতিও অনেক।
ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষিতে মুখর হাট। হাসিল ঘরগুলোর সামনে বিক্রি হওয়া গরুর হাসিল পরিশোধের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
আর আফতাব নগর হাটের সার্বিক অবস্থা দেখতে এসে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে হাটের বর্জ্য সরাতে হবে। তা না হলে বাতিল হবে ইজারাদারের জামানত।
মেয়র জানান, ইজারাদারকে তাদের দায়িত্বে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। না হলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জমা অর্থ বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঈদে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করার সব প্রস্তুতি রয়েছে। ১০ হাজার কর্মী কাজ করবে।
৬০০ যানবাহন, পচনশীল পলি ব্যাগ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন রয়েছে। সবার সহযোগিতায় কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার করা হবে।
একই হাট পরিদর্শনে এসে, নিরাপত্তার জন্য বেপারীদের পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বাস টার্মিনালে যাত্রী চাপ কম, ভাড়া বেশি
তিনি জানান, হাটে ক্রেতা বিক্রেতার আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। সব পশুর হাটের সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষও জানান পুলিশ প্রধান।
এদিকে, আগে ক্রেতার গরু হাঁটিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। কয়েক বছর ধরে রাজধানীর হাটগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি ছোট-বড় পিকআপ। এসব পিকআপে পশু পৌঁছে যায় বাড়িতে।
তবে করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়লেও পশুর হাটগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি। ব্যাপারী, খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই।
