ভয়াবহ আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া রাজধানীর বঙ্গবাজারের নিঃস্ব ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানেন না যে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইনস্যুরেন্স করা ছিলো। মূলত যারা ব্যাংক ঋণ নিয়েছিলেন তারা ওই ঋণের বিপরীতে ইনস্যুরেন্স থেকে কিছু টাকা ফেরত পাবেন। যা কিছুটা হলেও, তাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। এ যেন অনেকটা নাই মামার কানা ছেলের মতো।
এদিকে, শুরু হয়েছে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়ার কাজ, শেষ হবে রোববারের মধ্যেই। তারপর অস্থায়ী দোকান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতি।
প্রবাদ আছে প্রজাপতি নাকি সৌভাগ্য নিয়ে আসে। পোশাকের বাহারি বঙ্গবাজার যখন কয়লায় পরিণত হয়েছ, সেই ধ্বংসস্তূপে তখন ডানা মেলেছে প্রজাপতি। কিছু আশার খবর ও পেলেন ব্যবসায়ীরা। হঠাৎই বিভিন্ন ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কর্মীদের দেখা গেলো বঙ্গবাজারে। বিভিন্ন দোকানিদের সাথে তারা কথা বলছেন। ছবিও তুলছেন।
জানা গেছে মার্কেটের ২ হাজার ৯০০ দোকানির অনেকেরই ব্যাংক ঋণ ছিলো। যা কোটি টাকা থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত। সেই ঋণের বিপরীতে নিয়ম মেনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষই ইনস্যুরেন্স করেছিলো। যা তারা জানতেন না। এখন সেই টাকা ফেরত পাবেন অনেকেই। এজন্য কাজ করছেন বীমা কোম্পানির সার্ভেয়াররাও।
তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বীমা কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তাই আমরা এখন তাদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত করতে এসেছি। এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দিতে তালিকা তৈরির কাজ করছেন ব্যবসায়ী-মালিকরা।
বঙ্গবাজার ব্যবসায়ী সমিতির তত্ত্বাবধানে শুক্রবার সকাল থেকে আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের আশা দুই একদিনের মধ্যেই সব পরিষ্কার করে আবার অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করাতে পারবেন তারা। এতে করে কিছুটা হলেও ঈদের আগে বাজার পাবেন তারা।
ব্যবসায়ী-মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের লোহা বিক্রি করা হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বিক্রির এই টাকা জমা হবে সমিতির তহবিলে।
তিনি বলেন, বলেন, যদি শুক্রবার রাতের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হয়ে যায় তাহলে শনিবার সকাল থেকে এখানে দোকান বসবে। আর যদি শনিবার শেষ হয় তাহলে যতটুকু জায়গা পরিষ্কার হবে ততটুকু জায়গাতেই দোকান বসবে।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গের প্রথম দিনের ট্রেনের টিকেট পাঁচ মিনিটেই শেষ
যাদের আগে মার্কেটে দোকান ছিলো, শুধু তারাই এখন দোকান দিতে পারবেন। বাইরের কারও দোকান দেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের এখন অপেক্ষা ধ্বংসস্তূপ সরানো। ধ্বংসস্তূপ সরানো হলে অস্থায়ীভাবেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। পরে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে চার হাজারের বেশি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন নির্বাপণের কাজ শেষ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
একাত্তর/এসজে
