তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী মন্ত্রীপরিষদ সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পাশাপাশি আসন্ন আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চূড়ান্ত আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুস সোবহান।
আর এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী)। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের এন্টি টোব্যাকো সেলের সদস্য সচিব ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে এখন তামাক ব্যবহার করেন প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ মানুষ। তারা ছাড়াও কর্মক্ষেত্রসহ খোলা জায়গা ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানে প্রায় তিন কোটি ৮৪ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য ক্ষতির শিকার হয়।
বক্তারা বলেন, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে দেশে অসংক্রামক রোগ যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী রোগ ইত্যাদি বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগের কারণে।
আর এই অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির কারণ মূলত ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার। তাই এই অকাল মৃত্যু ঠেকাতে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়াটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন এবং পাশ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজার ব্যবসায়ীদের এক কোটি টাকা দিলো এফবিসিসিআই
তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশে এখনো ধূমপানমুক্ত পরিবেশ ও তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা যায়নি। ফলে এখনই আইন না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এছাড়া, ইউনাইটেড ফোরাম ও হার্ট ফাউন্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন ও ১৫ হাজারের বেশি ব্যক্তি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
একাত্তর/এসজে
