অংশীদারিত্ব ছাড়া সংস্কার অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রব।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাসানী জনশক্তি পার্টি চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণফোরণের সাধারণ সম্পাদক ডা.মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক জাবেদ রাসিম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা.হেলালুজ্জামান ও জেএসডির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া এসএম আনোয়ার হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন—
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল নিপীড়ন, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের গর্জন। এটি কেবল রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়, বরং ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি স্থাপন। ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী মানুষগুলো রাস্তায় নেমেছিল এই বার্তা নিয়ে—এই রাষ্ট্র কেবল কতিপয় মানুষের জন্য নয়, বরং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য।
তিনি আরও বলেন, জেএসডি’র মূল দর্শনই হচ্ছে—অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র। অর্থাৎ, কেবল রাজনৈতিক দলের নয়, সমাজের বিভিন্ন শক্তিরও সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশগ্রহণ। বর্তমান সংসদ ব্যবস্থা ‘নিম্নকক্ষ’ ভিত্তিক। এতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পেশাভিত্তিক বা সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নেই। যে কারণে সাংবাদিক, কৃষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নার্স, পরিবহনকর্মী, শিক্ষক কিংবা কৃষক—তাঁদের অভিজ্ঞতা বা মতামতের কোনো সাংবিধানিক মূল্য নেই।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই কাঠামোগত সংকটকেই সামনে এনেছে—এখানে কারো কারো প্রতিনিধি আছে, অনেকেরই প্রতিনিধিত্ব নেই; নির্বাচন আছে, কিন্তু অংশীদারিত্ব নেই।
সভাপতির ভাষণে তানিয়া রব বলেন—আমাদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ হবে ২০০ সদস্যের, যা গঠিত হবে—
* শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্বে;
* নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রবাসীদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি;
* রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রতিরক্ষা, পুলিশ, প্রশাসন);
* প্রাদেশিক প্রতিনিধিত্ব;
* রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী সামান্য সদস্য।
এই সদস্যরা নির্বাচিত হবেন ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে, যার ভিত্তি হবে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব। মেয়াদ হবে ৪ বছর, এবং প্রতি ২ বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে আলোচনা সভা শেষে গতকাল গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের উপরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী।
চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, হয়ে যাচ্ছে মবোক্রেসি: সালাহউদ্দিন আহমদ