বিএনপি সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ সংসদের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় দলের এ বৈঠক হয়েছে।
সংসদীয় দলের বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, এটা একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত যে দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন, গণতন্ত্রকে ধবংস করে দেওয়া, সংসদকে অকার্য্কর করা এই পর্বের পরে জনগণের অনেক রক্তের বিনিময়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি সংসদ পেয়েছি। এই সংসদের মধ্য দিয়ে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আমরা আমাদের তরুন নেতা জনাব তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি।
দেশ এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী তার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আজকে আমাদের প্রথম এই সংসদীয় দলের সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিএনপির সংসদ সদস্য তারা ডিউটি ফ্রি কোনো গাড়ি নেবেন না এবং কোনো প্লটও নেয়া হবে না সরকারের কাছ থেকে, এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমানসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। শপথ নেয়ার পর সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে সই করেন। এরপর বৈঠকে বসেন তারা।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন।
আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এয়োদশ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটির আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মারা যাওয়ায় একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিলো জামায়াত