মিরপুরে বাংলাদেশকে সিরিজের প্রথম টেস্টে হারিয়ে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে বাংলাদেশ আগে থেকেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের শেষের সারিতে অবস্থান করছিলো। মিরপুর টেস্ট হেরেও লিগ টেবিলে তাদের অবস্থান বদল হয়নি।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অবস্থান মজবুত করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর উপমহাদেশের মাটিতে টেস্ট জয়, দুই মিলিয়ে মিরপুরের জয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন এইডেন মার্করামের কাছে বিশেষ কিছু। বিরূপ পরিস্থিতির পরও দুর্দান্ত দলীয় নৈপূণ্যের কারণে মিরপুরের টেস্ট জেতায় খুশি হতেই পারেন তিনি।
উপমহাদেশে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো জয় নেই । একাদশের নেই বাংলাদেশে টেস্ট খেলার কোন অভিজ্ঞতা। সার্বিক অভিজ্ঞতার বিচারেও প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে তারা। কিন্তু এর কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই সাত উইকেটের এই জয় বিশেষ জায়গা পেয়েছে মার্করামের হৃদয়ে।
ম্যাচ শেষে তাই এই জয়কে স্পেশালই বললেন তিনি। মার্করাম বলেন, আমার মতে, এটি স্পেশাল। তরুণ ও অনভিজ্ঞ দলের জন্য এখানে এসে ম্যাচ জেতা দারুণ অর্জন। এই জয় আমাদের বিশ্বাস জুগিয়েছে যে বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও আমরা লড়াই করতে পারব। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপারে।
তিনি বলেন, সামনে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব, তা মোকাবিলা করতে রোমাঞ্চ অনুভব করছি। আমার মনে হয় না, আমরা দক্ষিণ আফ্রিকানরা এই জয়টিকে কখনও সাধারণ মনে করব। আমার কথাই ধরুন, কয়েক বছর ধরে খেলছি কিন্তু কখনও উপমহাদেশে জিতিনি। আমাদের জন্য এটি বিশেষ মুহূর্ত।
টেম্বা বাভুমার চোটে দায়িত্ব পাওয়া মার্করাম বলেন, এই জয় থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো দল হিসেবে বিশ্বাসটা। সামনের ম্যাচেও ভালো পারফর্ম করে সত্যিকারের ভালো দল হয়ে উঠতে এটি আমাদের সাহায্য করবে। সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা উন্মুখ।
মার্করাম জানালেন, ভেরেইনা-মুল্ডাররা নিজেদের শক্তির জায়গা ধরে রেখেই পেয়েছেন সাফল্য। ভেরেইনার দিকে দেখুন, সে দারুণভাবে সব সুইপ খেলেছে। ছেলেদের নিজেদের শক্তির জায়গা ধরে রাখতে দেখা আনন্দের। নিজেদের মেলে ধরে, শক্তির জায়গায় অটল থাকে। এরপর যা হয় হবে।
মিরপুরের বিরুদ্ধে কন্ডিশনে দাপুটে জয় পাওয়ায় চট্টগ্রাম টেস্টেও ভালো করার প্রেরণাও পাচ্ছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার শুরু হবে দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট।
বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা