ফুটবল বিশ্বে ‘এল ক্লাসিকো’র বৈরিতা নতুন কিছু নয়, তবে সেই উত্তেজনার পারদ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল স্পেনের জাতীয় দলে। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন স্পেনের ইউরো জয়ী কোচ লুইস দে লা ফন্তে।
আর তাতেই ফুটবল পাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। কারণ, স্পেনের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের দলে রিয়াল মাদ্রিদের একজন খেলোয়াড়ও জায়গা পাননি! উল্টো পুরো স্কোয়াডে লেগেছে বার্সেলোনার নীল-বেগুনি রঙ; স্প্যানিশ কোচ দলে নিয়েছেন কাতালান ক্লাবটির রেকর্ড আটজন ফুটবলারকে।
২০১০ সালের পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে নামা স্পেনের এই স্কোয়াড থেকে রিয়াল মাদ্রিদের দানি কারভাহাল কিংবা ডিন হাইজেনের মতো চেনা তারকাদের বাদ পড়া নিয়ে স্পেনের ফুটবল মহলে এখন তুমুল বিতর্ক। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সমর্থকদের এই ক্ষোভকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ ঝাঁঝালো জবাব দিয়েছেন কোচ দে লা ফন্তে।

স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার আরটিভিই এবং সংবাদ সংস্থা ইএফই আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রেকফাস্টে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে তিনি সোজা জানিয়ে দেন, আমার কাছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্লাব বা দল হলো স্পেনের জাতীয় দল। কোনো ক্লাবের লোগো বা ব্যাজ দেশের চেয়ে বড় হতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, কোন খেলোয়াড় কোথা থেকে এসেছে বা কার অতীত কী, তা দেখে আমি দল সাজাই না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যারা স্প্যানিশ এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গর্ববোধ করে, তাদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গঠন করা।
রিয়াল মাদ্রিদের কেউ সুযোগ না পেলেও বার্সেলোনার জোয়ান গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস এবং তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালকে নিয়ে দল সাজিয়েছেন কোচ। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা সাতজন ফুটবলারও জায়গা পেয়েছেন এই স্কোয়াডে। বিতর্ক এড়াতে দে লা ফন্তে দাবি করেন, শুধু মাঠের পারফরম্যান্স ও কৌশলগত দিক বিবেচনা করেই তিনি দল বেছে নিয়েছেন, যদিও দল নির্বাচন কিছুটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তিনি রসিকতা করে বলেন, যেদিন আমি সস্তা ফলাফলের লোভে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেব, সেদিনই আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়বে।

এবারের বিশ্বকাপে এইচ-গ্রুপে স্পেনের প্রথম ম্যাচ পুঁচকে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে, এরপর তারা লড়বে সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্প্যানিশ শিবিরে বড় দুশ্চিন্তা দলের তিন প্রধান তারকা লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস এবং মিকেল মেরিনোর ফিটনেস নিয়ে।
তারা সবাই বর্তমানে চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। এই বিষয়ে কোচ অবশ্য বেশ আশাবাদী, আমরা সব ক্লাবের সাথে যোগাযোগ রাখছি। খেলোয়াড়দের রিকভারি খুব ভালো হচ্ছে এবং আশা করি প্রথম ম্যাচেই তাদের পাওয়া যাবে।" তবে তাড়াহুড়ো করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ঝুঁকি নিতে হলে আমরা নেব, কিন্তু আমাদের চোখ শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই আটকে নেই। প্রয়োজনে আমরা একটু ধৈর্য ধরব।
স্পেনের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ১৮ বছর বয়সী বার্সা উইঙ্গার লামিন ইয়ামালকে নিয়ে কোচের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়স কম হলেও ইয়ামালের পরিণত মানসিকতার প্রশংসা করে দে লা ফন্তে বলেন, ইয়ামাল বিশ্বকাপে খেলার জন্য ছটফট করছে এবং ও পুরোপুরি প্রস্তুত। বয়স মাত্র ১৮ হলে কী হবে, ওর পরিপক্বতা অসাধারণ। ও ভালো করেই জানে যে এটাই ওর আলো ছড়ানোর সঠিক সময়। আর সুযোগ এলে তা লুফে নিতে হয়, ইয়ামাল সেটাই করবে। রিয়াল-বার্সার এই অভ্যন্তরীণ ঠান্ডা যুদ্ধ মাঠের পারফরম্যান্সে স্পেনের কোনো ক্ষতি করে, নাকি কাতালান শক্তির ওপর ভর করে দে লা ফুয়েন্তের দল সোনার ট্রফি ঘরে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
