কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করলেন মোদী

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম

ভারতের লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেই, নিজেদের প্রথম ভাষণটি দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরোধী ইনডিয়া জোটের থেকে কংগ্রেসই ছিলো তার আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য।

কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন মোদী বলেছেন, দলটিকে ২০২৯ সাল এবং তারপরেও বিরোধী দলের আসনে বসেই কাটাতে হবে।

তবে, মঙ্গলবার সংসদ নেতা ভাষণের সময়টুকু বিনা বাধায় ছেড়ে দেয়নি বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদিও দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হট্টগোলের মধ্য দিয়ে কথা বলে গেছেন, তবে একবার এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে বিরোধীরা সহজে হাল ছাড়বে না। তৃতীয় দফায় সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম লোকসভা ভাষণ। মোদী বিকেল চারটেয় তার জবাবি ভাষণ শুরু করেন।

ভাষণ শুরু করার জন্য উঠে দাঁড়াতেই স্লোগান দিতে শুরু করে বিরোধীরা। মণিপুর থেকে নিট কেলেঙ্কারি সব ইস্যুতেই স্লোগান দিতে শুরু করেন বিরোধীরা। মোদীর বক্তব্যের মধ্যেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়ে যায়। বার বার থামানোর চেষ্টা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি বিরোধীদের বলেন, আপনাদের সবাইকে বলার সময় দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে বলতে দিন। এ রকম করবেন না। তবে এরপরও শোরগোল থামেনি।

হট্টগোলের মাঝেই বক্তৃতা দিতে থাকেন মোদী। প্রথম ভাষণের শুরুতে একবার থামতেও হয় তাকে। তবে মোদীও কম যান না। একবারের জন্যও ধৈর্য্য হারাননি তিনি।

মোদী বলেন, সোমবার সংসদে যা হয়েছে, ভাবা যায়নি। হিন্দুরা সহনশীল। তাই ভারতের বিশলতা আজও অটুট। হিন্দুদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বলা হয়েছে, হিন্দু হিংসাত্মক। এ রকম আপানারা?

কটাক্ষ করে মোদী বলেন, কংগ্রেস যে দলের সঙ্গে জোট বাঁধে, তাদেরও ভোট কমে যায়। যেখানে কংগ্রেস প্রধান দল ছিল, সেখানে তার স্ট্রাইক রেট ২৬ শতাংশ। কিন্তু যেখানে কারও সঙ্গী হয়েছিল, সে সব রাজ্যে ওদের স্ট্রাইক রেট ৫০ শতাংশ। গুজরাট, ছত্তীশগড়, মধ্যপ্রদেশে নিজেদের দমে লড়েছে। ৬৪টির মধ্যে দু’টিতে জিতেছে তিন রাজ্যে। কংগ্রেস এখন ‘পরজীবী’। জোটসঙ্গীদের কাঁধে চড়ে এই আসন পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী যখন ঠাট্টার ছলে এসব বলছেন, তখনও বিরোধীরা পেছনে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘মণিপুর, মণিপুর’। তারপরও মোদী বলেন, কংগ্রেস নেতারা যা বলছেন, তাতে শোলে ছবিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। ১৩টি রাজ্যে একটিও আসন পায়নি কংগ্রেস। তাতে কী, হিরো তো আছে! সংসদে তখনও ‘মণিপুর, মণিপুর’ ধ্বনি দিতে থাকেন বিরোধীরা। মোদীও একের পর এক তীর বিঁধতে থাকেন।

সন্ত্রাসবাদ ও কাশ্মীর ইস্যুতে মোদী বলেন, এক সময় নিষ্পাপ মানুষের মৃত্যুর পর মৃত্যু হতো। সরকার চুপ করে বসে থাকতো। একটা কথা বলারও ক্ষমতা ছিল না। আজকের সরকার ঘরে ঢুকে মেরে আসতে পারে। আজ এয়ার স্ট্রাইক করতে পারে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে পারে। দেশের মানুষকে সন্ত্রাসবাদ থেকে বাঁচাতে সব কিছু করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেটা করে যাবে।

মোদী বলেন, ২০১৪-র আগে মানুষ নিজেদের ভাগ্যকেই দোষ দিতেন। ন্যায্য রেশনও পেতেন না মানুষ। তারপরই মানুষ আমাদের সেবার করার সুযোগ দেন। এরপর মানুষ বলতে শুরু করেছেন, ভারত এখন সব করতে পারে। কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে মোদী বলেন, ২০১৪ সালের ওই দিনগুলোতে আমাদের দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছিলো।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুষ্টিকরণ নয়, আমরা সন্তুষ্টিকরণ করে চলেছি। আর এই সন্তুষ্টিকরণ হল, দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা। সেই জন্যই দেশের মানুষ আমাদের তৃতীয়বারের জয় এনে দিয়েছে। ‘বিকশিত ভারত’ থেকে উপকৃত হচ্ছেন দেশের মানুষ। তাদের জীবনযাত্রার মাণ উন্নত হয়েছে। গোটা বিশ্ব থেকে ভারতও পিছিয়ে থাকবে না।

মোদী বলেন, দেশ কংগ্রেসকে বলে দিয়েছে, তোমার দ্বারা হবে না। ১ জুলাই লোকে দেখছিলো, অ্যাকাউন্টে সাড়ে আট হাজার টাকা এসেছে কি না! কারণ, কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশের মা-বোনদের টাকা দেবে তারা। এই মা-বোনদের অভিশাপে শেষ হবে কংগ্রেস। ইভিএম, সংবিধান, সংরক্ষণ নিয়ে মিথ্যা বলে কংগ্রেস। তার আগে রাফাল, এলআইসি নিয়ে মিথ্যা বলেছে কংগ্রেস।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সংসদে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাদের তরফে বলা হয়েছে, এমএসপি দেয়া হয়নি। এটা সংবিধান, সংসদের গরিমার অবমাননা। সোমবার যা হয়েছে, এটি গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে লোকতন্ত্রকে রক্ষা করা যাবে না। ‘বালকবুদ্ধি’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এ সময় পেছন থেকে ‘আমরা ন্যায় চাই’ বলে তুমুল শ্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী ইনডিয়া জোটের সদস্যরা।

দুই ঘন্টা ধরে নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ দেয়ার সময় বিরোধীদের শোরগল সবাইকে ২০০৪ সালের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবার লোকসভার প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে তার মন্ত্রী পরিষদের সাথে পরিচয় করাতে বাধা দেয় বিরোধী দল বিজেপি। তারা বিক্ষোভও করে সংসদের ভেতরে। এবার ঠিক একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হলো ক্ষমতাসীন বিজেপিকে।

এআরএস
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং মূল ফটক ডিঙিয়ে দিল্লির বিখ্যাত যন্তর মন্তরে প্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচার বিভাগীয় জেল হেফাজতের...
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ কিংবা ফ্রান্সের তুলনা টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর করা ‘শাসন পরিবর্তন’ মন্তব্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের জবাবে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ...
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা পদযাত্রার পরিকল্পনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা...
ভারতের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ! সৌজন্যে- জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং তার একটি বিস্ফোরক ভিডিও। সাক্ষাৎকারের একটি ক্লিপে নেহাকে বলতে শোনা গেছে, ভারতের...
মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথে যাওয়া সন্তানের অত্যাচারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পুরো পরিবারের। বুঝিয়ে, শাসন করে, কোনোভাবেই যখন ঘরোয়াভাবে শুধরানো যাচ্ছিল না, তখন আর কোনো উপায় না দেখে চরম এক কঠিন...
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান মঙ্গলবার বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক এক বৈজ্ঞানিক...
স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক শুভক্ষণে বঙ্গভবনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এক রাজকীয় ও আন্তরিক বৈঠকে মিলিত হলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে বন্ধুর স্ত্রীর মন চুরি, এরপর পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে এক ছাদের নিচে সংসার পাতা- প্রেম আর বিশ্বাসের এই নাটকে শেষ পর্যন্ত রক্তের ছোপ লাগলো! ধুনটে বন্ধুর ওপর দীর্ঘদিনের জমানো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর