রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের আকস্মিক আক্রমণ এবং বেশ কিছু এলাকা দখলে নেয়ার পর পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করেছে মস্কো। তবে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নতুন করে অগ্রগতির দাবি করেছে ইউক্রেন। আর রাশিয়াও ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাত থেকে কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। দখল ও পুনরুদ্ধারের পাল্টাপাল্টি দাবিতে জমে উঠেছে চলমান যুদ্ধ।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিসিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ায় ইউক্রেনের অগ্রগতি মন্থর হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কিয়েভের এই অভিযানের যবনিকা ঘটবে। কারণ, রুশ ভূখণ্ডে অগ্রযাত্রা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং জ্বালানি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর হাতে নেই।
তবে ইউক্রেনের সেনারা এখনও তাদের নিজস্ব সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকায় মানবিক ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি হবার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ইউক্রেনের এই আকস্মিক অভিযান মস্কোর যুদ্ধ চালানোর কৌশল প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গণে বড় ধরনের সমস্যা তৈরির ক্ষেত্র রচনা করেছে।
কুরস্ক অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখলে নেয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি রাশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর চালানো সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে রাশিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও অজেয় নয়।
মস্কো ইতিমধ্যেই সীমান্তের পাশে ইউক্রেনের অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে গ্লাইড বোমা ব্যবহার করে তার বিমান বাহিনীর ভিডিও প্রকাশ করেছে। একই অস্ত্র দিয়ে পূর্ব ইউক্রেনে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি ইউক্রেনের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার শুরু করেছে রাশিয়ার সেনারা।
সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের সাথে সাথে সীমান্তের ওপারের ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার আক্রমণের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তারা বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেনের সরবরাহ লাইনে হামলা এবং বিমান বাহিনীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। ফলে বিপদে পড়বে ইউক্রেন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেন তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে চাইলেও তা টেকসই হবে না। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা এতোটাই বেশি শক্তিশালী যে, মস্কো চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে কুরস্ক থেকে ইউক্রেনকে তাড়িয়ে দিতে পারে। এবং প্রয়োজনে সেটি রাশিয়া তেমনটিই করবে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার অভিযানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকা ইউক্রেন গত ৬ আগস্ট পাল্টা অভিযান শুরু করে। ইউক্রেন বলছে, তারা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতি এবং সুদঝা শহরের দখল নিয়েছে। সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটার দূরে শহরটির অবস্থান।
কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে একটি গ্রামকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাত থেকে দখলমুক্ত করার দাবি করে রাশিয়া বলেছে, বেলগোরোদ অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে তারা। সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া মানুষের মধ্যে খাবার ও কাপড় বিতরণ করেছে রাশিয়ান রেডক্রস।
এদিকে, কুরস্ক অঞ্চলে একটি সামরিক প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অলেক্সান্ডার সিরস্কি বলেছেন, সেনা কার্যালয়টি ‘আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে’ এবং এলাকার মানুষের ‘তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাবে’।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে রাশিয়ার পশ্চিমের কুরস্ক অঞ্চলে হামলা শুরু করে মস্কোকে চমকে দেন। আড়াই বছরের যুদ্ধে রাশিয়ায় ইউক্রেনের এটি সবচেয়ে বড় হামলা। এরই মধ্যে কুরস্ক অঞ্চল থেকে ৭৬ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়া।
কলকাতাকাণ্ডে ভারতজুড়ে বড় হচ্ছে বিক্ষোভ