সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বার প্রান্তে ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানে ভারতের হামলা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। তার মধ্যে আবার নতুন করে এই সংঘাত ভারত-পাকিস্তানকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতের রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৪৭ সালের পর ভারত ও পাকিস্তান একাধিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, এর বেশিরভাগই কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। এই যুদ্ধে অন্তত দশ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে অন্তত দেড় কোটি মানুষ।
এরপর প্রথম যুদ্ধটি দুই দেশ স্বাধীন হওয়ার দুই বছর পরেই শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অবসান হয় সেই যুদ্ধের। একই সাথে জাতিসংঘ ৭৭০ কিলোমিটার যুদ্ধবিরতি রেখা দিয়ে কাশ্মীরকে বিভক্ত করে দেয়।
দ্বিতীয়বার ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের বাহিনী ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রবেশ করলে আবার যুদ্ধে জড়ায় দুই দেশ। এর ফলে ভয়াবহ স্থল ও বিমান যুদ্ধ শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেপ্টেম্বরে যুদ্ধবিরতির আগে এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।
তৃতীয় দফায় দুই দেশ আবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ১৯৭১ সালে। এছাড়া, ১৯৮৯ সালে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় ওঠার সাথে সাথে কাশ্মীরে বিদ্রোহ শুরু হয়। এতে সেনাসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

এরপর, ১৯৯৯ সালের কার্গিলে সংঘাতে জড়ায় ভারত-পাকিস্তান। ইসলামাবাদ সেনারা ভারতের কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করলে শুর হয় যুদ্ধ। এসময় নিহত হয় অন্তত এক হাজার মানুষ। এনিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল।
এছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্য ২০১৬ সালে উরিতে সশস্ত্র হামলার পর আবারও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। জবাবে পাকিস্তানে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায় ভারত।
পুলাওয়ামা বোমা হামলার পর ২০১৯ সালে বালাকোটের কাছে বিমান হামলা চালায় নয়াদিল্লি। পাকিস্তানও তাদের নিজস্ব বিমান হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা কার্গিলের পর থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি করে। আর সবশেষ পেহেলগামে হামলাকে কেন্দ্র করে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ায় দুই প্রতিবেশী।
পরবর্তী করণীয় নিয়ে তোড়জোড় ভারত ও পাকিস্তানে