ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ ও দখল নিতে সেখানে বড় ধরনের অভিযান শুরু ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ বলেছে, হামাসকে পরাজিত করা এবং অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বড় অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপত্যকার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া।
২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর হামাসের হামলায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এরপরই ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এখনো হামাসের কাছে ৫৭ জন জিম্মি রয়েছে। আর, এসব জিম্মিদের মুক্তি করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের জন্য এবার গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ইসরাইল।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামাসকে পরাজিত করা ও সেখানে থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত হামাস হুমকি না হয়ে ওঠে এবং তাদের কাছে থাকা সব জিম্মি মুক্ত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা অভিযান বন্ধ করবে না।
গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় ১৫০টিরও বেশি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইল। গাজা কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় আড়াইশো জন নিহত হয়েছে।

দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত মার্চ মাস থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরাইল। সীমান্তে সাঁজোয়া বাহিনীও মোতায়েন শুরু করে। এরপরই শুরু হলো এই অভিযান।
এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে, গাজার দক্ষিণে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো এবং হামাসকে প্রতিহত করা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ইসরাইল গাজায় তীব্র আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যার উদ্দেশ্য ওই এলাকা দেশটি দখলে রাখা।
গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান