ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয়ের একটি হবে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের বিজয় উদযাপন। তাদের বৈঠক গাজার যুদ্ধ থামানোর সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ এই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হবে কিনা, তা নিয়ে মতবিরোধ আছে বিশেষজ্ঞদের। মিডল ইস্ট কাউন্সিল ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স মনে করে, যেভাবে আলোচনাগুলো চলছে, তাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ট্রাম্প আসলে গাজার মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে নয় বরং ইসরাইলিদের মুক্ত করতেই আগ্রহী।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মাইরাভ জন্সেইন বলেন, চুক্তি হতে পারে, তবে সেটি টিকবে কিনা তা অনিশ্চিত। তিনি বলেন, ইসরাইল অনেক সময় বিনা উসকানিতেই গাজায় হুটহাট বোমা হামলা চালায়। এক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী নাও হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প নিজের কূটনৈতিক কৃতিত্ব দেখাতে বড় চুক্তির খোঁজে থাকেন। তিনি চাইছেন, গাজার বিষয়টি মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। তাহলে নিজেকে বিশ্বজয়ী বলার সুযোগ পাবেন। তবে নেতানিয়াহুর জন্য এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন।
২০২৬ সালের অক্টোবরের আগে ইসরাইলে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে নেতানিয়াহু যদি জিম্মিদের ফেরাতে পারেন, তাহলে আগাম নির্বাচন ডেকে তিনি জনসমর্থন পেতে পারেন। অন্যদিকে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে তার জোট সরকার ভেঙে যেতে পারে। কারণ তার ডানপন্থি শরিকরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।
ইউরোপিয়ান ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের হিউ লোভাট বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে নেতানিয়াহু হয় নির্বাচন ডেকে যুদ্ধ থামাতে পারেন। নয়তো আবার হামলা শুরু করবেন জোট টিকিয়ে রাখতে।
অধ্যাপক খালেদ এলগিন্ডির মতে, ট্রাম্প চাইছেন যে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইসরাইলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার যে বিচারকাজ চলছে, তা বন্ধ করা হোক। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি মামলা না তোলা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার চাঞ্চল্যকর মাশরুমকাণ্ডে এরিন দোষী সাব্যস্ত
ব্রিকসের পক্ষ নিলেই বাড়তি শুল্ক আরোপ, হুমকি ট্রাম্পের