বাংলাদেশ, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সময়সীমা পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় নয়। অর্থাৎ আলোচনা ও ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। এদিকে, নতুন এই শুল্ক ঘোষণার পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে মন্দাভাব দেখা গেছে।
নতুন করে শুল্ক আরোপ করে, আবারও কড়া বাণিজ্যনীতির পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানসহ মোট ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক হার নির্ধারণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত শুল্কের পরিমাণ উল্লেখ করে ১৪টি দেশের নেতাদের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, সামনে আরও কিছু দেশে চিঠি পাঠানো হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের ৯০ দিনের শুল্ক বিরতির সময়সীমা শেষ হতে চলায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এর আগে ৯ জুলাই থেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে ১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশে চিঠি পাঠানোর কাজ শেষ করেছি, যেখানে তাদের জানাতে হবে যে তাদের কত শুল্ক দিতে হবে। কেউ কেউ হয়তো কিছুটা সমন্বয় করবে। কিন্তু আমরা এতে অন্যায্য করব না। আসলে, আমাদের যা পাওয়া উচিত তার তুলনায় এটি একটি ছোট অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপরও নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ ছাড়া মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ, তিউনিসিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, বসনিয়ার ওপর ৩০ শতাংশ, সার্বিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের ওপর ৩৬ শতাংশ এবং কাজাখস্তানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, অনেক দেশ আলোচনার জন্য নতুন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে আংশিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ভারতের সাথে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব চুক্তির পরেও আগের তুলনায় শুল্কের হার বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চললেও ইস্পাত ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে সুরক্ষা দেবে। একইসঙ্গে মার্কিন পণ্যের উৎপাদন বাড়াবে। তবে নতুন এই শুল্ক ঘোষণার পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে মন্দাভাব দেখা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব শুল্ক বাণিজ্য আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
ড. ইউনূসকে ট্রাম্পের চিঠি, বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ