২০২৫ সালটি অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের কর্মজীবনের জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ বছর। কাজের পাশাপাশি তিনি এই বছর নারী শিল্পীদের জন্য আট ঘণ্টার কর্মদিবস নির্ধারণের পক্ষে সরব হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি অভিনেত্রী আবারও এই বিষয়ে তার দৃঢ় মতামত প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন কীভাবে ‘ওভারওয়ার্কিং’ বা অতিরিক্ত কাজ করাকে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয় এবং কেন এই ধারণা পরিবর্তন করা জরুরি। এনিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন দীপিকা।
ফ্যাশন সাময়িকী ‘হার্পার্স বাজার’ -এর সাথে কথোপকথনে দীপিকা পাড়ুকোন বিশেষ করে নতুন মায়েদের কর্মক্ষেত্রে ফেরা প্রসঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন মায়েরা যখন কাজে ফেরেন, তখন তাদের সমর্থন করা উচিত, মা হবার পর এই বিষয়টি আমি এখন গভীরভাবে অনুভব করি। এটি এমন একটি বিষয় যার উপর আমি ফোকাস করতে চাই। মাতৃত্ব আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে।
অতিরিক্ত কাজ করার সংস্কৃতি প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, আমরা অতিরিক্ত কাজের বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তুলেছি। আমরা ‘বার্নআউট’ বা নিঃশেষিত হওয়াকে প্রতিশ্রুতি বলে ভুল মনে করি। মানবদেহ ও মনের জন্য দিনে আট ঘণ্টা কাজই যথেষ্ট। আপনি যখন সুস্থ থাকবেন, তখনই আপনার সেরাটা দিতে পারবেন। কাজের কারণে ক্লান্ত একজন ব্যক্তিকে কাজে ফিরিয়ে এনে বা ধরে রেখে কারও কোনো লাভ হয় না।
নিজের অফিসে কঠোর নীতি
নিজের ব্যক্তিগত অফিসের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে দীপিকা জানান, তার অফিস কঠোরভাবে পাঁচ দিন এবং আট-ঘণ্টার কর্মনীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, আমার নিজের অফিসে, আমরা সপ্তাহে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দিনে আট ঘণ্টা কাজ করি। আমাদের ম্যাটারনিটি ও প্যাটরনিটি নীতি রয়েছে। আমাদের শিশুদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসাটাকেও স্বাভাবিক করা উচিত।
এর আগে যখন তাকে আট ঘণ্টার শিফট বিতর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি সিএনবিসি টিভি১৮-কে বলেন, একজন নারী হওয়ার কারণে যদি এটিকে বাড়াবাড়ি বা যা-ই মনে হোক, তবে তাই হোক। তবে এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক সুপারস্টার, বছরের পর বছর ধরে আট ঘণ্টা কাজ করে আসছেন, কিন্তু তা কখনও শিরোনাম হয়নি!

দীপিকা আরও যোগ করেন, আমি এখন নাম নিতে চাই না এবং এটিকে বড় বিতর্কে পরিণত করতে চাই না, তবে এটা প্রকাশ্যে যে, অনেক পুরুষ অভিনেতা বছরের পর বছর ধরে দিনে আট ঘণ্টা কাজ করেন। তাদের অনেকেই সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কেবল আট ঘণ্টা কাজ করেন। তারা সপ্তাহান্তে কাজ করেন না।
তিনি ইন্ডাস্ট্রির গভীরে গেঁথে থাকা ‘চলতা হ্যায়’ (যেমন চলছে চলুক) সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে এটিকে অসংগঠিত ও কাঠামোবিহীন আখ্যা দেন এবং বলেন, এখন নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন জরুরি।

দীপিকা পাড়ুকোন স্পষ্টভাবে এই বার্তাটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, কেন কর্মক্ষেত্রে একটি মানসম্মত সময়সীমা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আশাবাদী যে, তার অফিসের মতো নীতিগুলো ভবিষ্যতে বৃহত্তরভাবে গৃহীত হবে, যা সুস্থ কর্মপরিবেশ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
আসছে মোদীর বায়োপিক 'মা বন্দে’, মা হীরাবেনের চরিত্রে রবীনা 