লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর আল-খুমসের কাছে অভিবাসীবাহী দুটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।
সংস্থাটির শনিবার (১৫ নভেম্বর) প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম নৌকায় ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় নৌকায় ৬৯ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে দু’জন মিশরীয় এবং বাকিরা সুদানি। তাদের মধ্যে আট শিশুও ছিলো। তবে দ্বিতীয় নৌকার আরোহীদের ভাগ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি রেড ক্রিসেন্ট।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আল-খুমস লিবিয়ার অন্যতম প্রধান অভিবাসন ট্রানজিট পয়েন্ট। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে সংঘাত ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলো থেকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া প্রধানতম পথ হয়ে উঠেছে।
রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ছবিতে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো লাশের সারি এবং থার্মাল কম্বলে মোড়ানো উদ্ধারকৃতদের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় লিবিয়ান উপকূলরক্ষী বাহিনী ও আল-খুমস বন্দর নিরাপত্তা সংস্থা।
লাশগুলো স্থানীয় পাবলিক প্রসিকিউশনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, লিবিয়ার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে আল বুরি তেলক্ষেত্রের কাছে একটি রাবার নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৪২ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
গত মাসে ত্রিপোলির পশ্চিম উপকূলে ৬১ জন অভিবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেপ্টেম্বরে লিবিয়ার উপকূলে ৭৫ সুদানি শরণার্থীবাহী একটি জাহাজে আগুন লেগে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন।
জেনেভায় জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বৈঠকে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নরওয়ে ও সিয়েরা লিওনসহ কয়েকটি দেশ লিবিয়াকে অভিবাসী আটককেন্দ্র বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব কেন্দ্রে অভিবাসী ও শরণার্থীদের নির্যাতন, অপব্যবহার এমনকি হত্যা করা হয়।
হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার আটকের কথা জানালো ইরান