মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতি আরও কঠোর হলো। অভিবাসন নীতিতে এমন পরিবর্তন আনলে তার বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করে হত্যার জেরে অভিবাসন নীতি নিয়ে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়।
‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে ট্রাম্প কোন কোন দেশকে বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট না করলেও অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল ‘গ্লোবাল সাউথ’ দেশগুলোকে বোঝানো হয়। নিষেধাজ্ঞায় দরিদ্র দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে যেসব দেশ বিনিময়ে কিছু সুবিধা দিতে পারে তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শিথিল থাকবে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক অভিষেক সাক্সেনা বলেন তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা মা–বাবার দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে, যত দিন না এ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
কঠোর অভিবাসননীতি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক মানুষের ওপর আরও নানা দিক দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর যাচাই–বাছাই আরও কঠোর হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, দীর্ঘ নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বা সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়া হতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে ১২টি দেশের ওপর সম্পূর্ণ ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেসব দেশের নাগরিকেরা বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে পারবেন না। ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবার পরীক্ষা করা হবে। তবে কীভাবে এ প্রক্রিয়া চলবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল কিংবা স্থগিত হবে কি না; এখনো পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্পের এই কঠোর অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, তাদের জন্য সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ যে কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। ট্রাম্পের মতে, অবৈধ ও বিশৃঙ্খল জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্দেশ্যগুলো অনুসরণ করা হবে।
বন্যা ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়ালো