লাখ লাখ মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার দাফন হলেও পরের দিন বৃহস্পতিবার ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম সকাল থেকেই প্রিয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঢল নামে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের।
সকাল থেকেই খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতকারীরা উদ্যানে আসতে শুরু করলেও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম দিকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। উদ্যানের সামনের সড়কেও যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা থাকায় সকালেই কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রবেশাধিকার না পেয়ে অনেককেই উদ্যানের বাইরে বিজয় সরণির ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করতে দেখা যায়। সেখানে এক ব্যক্তিকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে। তবে বেলা ১১টার পর সড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়া হয় এবং দুপুর ১২টার পর উদ্যানের প্রবেশমুখ সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার টানে শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীরাই নন, বরং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ফাতেমা শারমিন জানান, তিনি রাজনীতি করেন না, তবুও কেবল শ্রদ্ধা থেকে শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীর কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে এসেছেন।

ফেনী থেকে আসা মবিনুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো দল করি না, কিন্তু বেগম জিয়ার শাসনকাল আমার কাছে সোনালী সময় মনে হয়। তাই তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে এসেছি।
আগতদের মধ্যে নারী ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামসহ তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মীকেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করতে দেখা গেছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার লাখো জনতা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিশাল জনসমুদ্রের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাকে দাফন করা হয়। আজও জোহরের নামাজের পর থেকে হাজারো মানুষের ভিড়ে এলাকাটি এক শোকাতুর পরিবেশে রূপ নেয়। সবার চোখে-মুখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর গভীর বেদনা।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এসে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী