অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দাবানল, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন সমুদ্র তীরে এবং সুইমিং পুলগুলোতে।
ভয়াবহ তাপপ্রভাবে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার জনজীবন। অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। বিভিন্ন জায়গায় দাবানল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ায় গরমে হাসফাস করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের আনাগোনা। সুইমিং পুলেও সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এই গরম সহ্য করার মতো না। মানুষ হাসফাস করছে। তাই পুলে এসে নিজেদের ঠাণ্ডা করছি।
দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে; রাজধানী মেলবোর্নে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ ডিগ্রি। কর্তৃপক্ষ এসব রাজ্যের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার আহ্বান জানিয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় দমকল বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে লড়াই করছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী অ্যাডিলেডে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে দুই হাজারের বেশি ঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের জন্য জনসমাগমস্থলগুলোর খোলা থাকার সময়ও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী সিডনিতে তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি এবং পার্থ শহরে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত গরমের কারণে মনাটো সাফারি পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গত ছয় বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। ২০১৯-২০ সালে, ভয়ংকর ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে ৩৩ জন নিহত হয়েছিলেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়। এবারের আবহাওয়া সেই ব্ল্যাক সামারের স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনছে যেন।
আবহাওয়া দপ্তর নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়ার জন্য তীব্র তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের সতর্কতাও দেয়া হয়েছে।
এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য সব উপায় নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প