দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বৃহস্পতিবার, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইউনের জারি করা সামরিক শাসন ছিল দেশটির পার্লামেন্ট বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে ‘অচল’ করার এক সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।
দেশে সামরিক শাসন জারির চেষ্টা এবং আইনসভা ঘেরাও করতে সেনা মোতায়েনের অভিযোগে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিচারক তাঁকে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়েও দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তাঁর এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জি কুই-ইউন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় চত্বরের বাইরে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইউনকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি যাওয়ার সময় তাঁর সমর্থকরা সেখানে ভিড় করেন, অন্যদিকে বিরোধীরা প্রাক্তন এই নেতার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
বিচারক জি কুই-ইউন আদালতে বলেন, আদালত মনে করে, আসামি দীর্ঘ সময়ের জন্য পার্লামেন্টকে অচল করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে কাজ করেছিলেন। সামরিক শাসন জারির ফলে সমাজকে বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে এবং বিবাদী (ইউন) যে তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত, এমন কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরপর তিনি ঘোষণা করেন, আমরা ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করছি।
তবে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ইউন এক বছর আগে থেকেই সামরিক শাসন জারির পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে সেই অভিযোগটি খারিজ করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ইউন সুক-ইওল ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকির অজুহাত দিয়ে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। তবে, তাঁর নিজের রক্ষণশীল দল- পিপলস পাওয়ার পার্টিসহ দেশের রাজনৈতিক নেতারা এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন। সাধারণ মানুষ পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সংসদ সদস্যরা সামরিক শাসনের বিপক্ষে ভোট দেন।
এরপর লি জে-মিউংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ইউনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনে, যা ১৪ ডিসেম্বর পাস হয়। ওই দিনই তাঁর ক্ষমতা স্থগিত করা হয় এবং গত বছরের এপ্রিলে সাংবিধানিক আদালত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে অপসারণ করে।
একই মামলায় ইউনের তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইরানে মার্কিন হুমকি প্রতিহতে ধেয়ে আসছে রুশ রণতরি
ইরানে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন