আটলান্টিকের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের বিশেষ বন্ধুত্ব এখন খাদের কিনারায়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বাগযুদ্ধ এক নোংরা মোড় নিয়েছে। ব্রিটেন শেষ মুহূর্তে তাদের দুটি রণতরী পাঠানোর কথা ভাবলেও ট্রাম্প সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন, ওগুলো এখন আর দরকার নেই! খবর রয়টার্সের।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশাল'-এ ট্রাম্প এক বিস্ফোরক পোস্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,
‘এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরী পাঠানোর কথা ‘গুরুতরভাবে’ ভাবছে। ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার, আমাদের ওগুলো আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা এই অসহযোগিতার কথা মনে রাখব। যুদ্ধ জেতার পর যারা যোগ দিতে চায়, তাদের আমাদের দরকার নেই!’

ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তার মূল কারণ হলো যুদ্ধের শুরুতে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীকে প্রবেশাধিকার না দেয়া। ট্রাম্পের মতে, স্টারমার এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ‘ধ্বংস’ করেছেন।
শনিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা তাদের বিশালাকার রণতরী 'এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস' মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এটি পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি স্টারমার প্রশাসন। এই ‘ধীরে চলো’ নীতিই ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, সামরিক অভিযানের আইনগত ভিত্তি এবং সঠিক পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তিনি ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেননি। যদিও পরে তিনি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো ধ্বংসের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্পের কাছে তা ছিল ‘অনেক দেরিতে নেওয়া অতি সামান্য’ পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের এই অপমানজনক মন্তব্যের পর মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বেশ কড়াভাবেই বলেন:

‘এই চাকরিতে আমি একটি বিষয়ই শিখেছি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের চেয়ে কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চটকদার কথা বা অতিরঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করি না। ব্রিটিশ চরিত্র হলো ধীরস্থির ও গম্ভীরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া’।
স্টারমার ও ট্রাম্পের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। এ বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, স্টারমার তার সমালোচনা করেছিলেন। আবার আফগানিস্তান যুদ্ধে ইউরোপীয় সৈন্যরা সামনের সারিতে লড়তে ভয় পায়, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে স্টারমার ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের ময়দানে যখন গোলাগুলি চলছে, তখন পর্দার আড়ালে দুই প্রধান মিত্রের এই ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের ‘আই উইল রিমেম্বার’ (আমি মনে রাখব) হুমকিটি ব্রিটেনের জন্য ভবিষ্যতে কতটা দামি হয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা আছে ইরানের: আইআরজিসি