মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা প্রশমিত করতে পাকিস্তান একটি বিশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। পাকিস্তানি সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, তারা তেহরানের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। তবে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘ডেডলাইন’ বা হুমকির মুখে তারা কোনো সংলাপে বসবে না। এরিমধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে তেহরান।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইরান আলোচনার জন্য দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে তাদের শত্রুতা বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যাবে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছেন, তা বিনাশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদমি ইসরাইল-মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এলো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরান নিজের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এই দাবিগুলো তৈরি করেছে এবং এগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া, স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় নেওয়া এবং পরবর্তীতে ইসলামাবাদের মাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক।
এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

চীন ও সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাথে সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোববার জানিয়েছিলেন, সোমবারের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ইরান দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়ানো হবে। অন্যদিকে, ইরান আপাতত কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের আশঙ্কা, যুদ্ধের এই বিরতি তাদের শত্রুদের পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও ইরানের অনমনীয় শর্ত পরিস্থিতিকে যেকোনো সময় এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
