এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে খরার ঝুঁকি, দাবানলে পুড়ছে দুই মহাদেশ

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১০:২৪ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছর শুরুর চার মাসেই আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সামনের দিনগুলোতে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।  

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি বছরের শুরুতেই আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে রেকর্ড মাত্রায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম যত এগোবে এবং এল নিনোর প্রভাব বাড়বে, পরিস্থিতি তত ভয়াবহ হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন নামের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে। যা আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

এছাড়া গবেষকরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় এ বছর তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকিও বাড়বে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের দাবানল বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনো দাবানলের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে বছরের শুরুতেই আগুনের এই ভয়াবহ বিস্তার এবং সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

El Niño's' impact on Indonesia

এল নিনো হলো বৈশ্বিক জলবায়ুর একটি ধরণ যা কয়েক বছর পর পর ঘটে। এটি মূলত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি ধরণ, যা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে বিস্তৃত। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এই ধরণ স্থানীয় আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে, যার ফলে সাধারণত বিশ্বজুড়ে উষ্ণতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। 

আফ্রিকায় চলতি বছরে এরিমধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। যা আগের রেকর্ডের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। 

গবেষকদের মতে, অতিবৃষ্টি থেকে হঠাৎ চরম শুষ্ক আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কারণে সেখানে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

এল নিনো জলবায়ুর একটি চক্রাকার প্রভাবের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে লা নিনো, এটি হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের শীতল তাপমাত্রা এবং এটি সামগ্রিক শীতল বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত। একটি নিরপেক্ষ পর্যায় এবং তারপর এল নিনো, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর এই উষ্ণ তাপমাত্রা উষ্ণতর বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে যুক্ত থাকে। 

এদিকে এশিয়ায় পুড়ে গেছে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমি। ২০১৪ সালের আগের রেকর্ডের তুলনায় যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস ও চীন।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আমাজন বনাঞ্চলেও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

আরবিএস
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দাবানল, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম মাস ছিলো চলতি বছরের সেপ্টেম্বর। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা চলতি মাসেও রেকর্ডের...
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলের দুই কাউন্টিতে বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে এবং ঐতিহাসিক চাইনিজ ক্যাম্প শহরের বড় অংশ পুড়ে গেছে।
২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নামে বড়ো অঙ্কের অর্থ লোপাট হয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে বর্তমান সরকার কোনো...
২০১৩ সালের পাঁচ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার কাছে জমা দেওয়া...
চলতি বছরের শুরুতে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘ফিনালিসিমা’- যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। কিন্তু ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক...
এবারের বিশ্বকাপে একদল ফুটবল ভক্তের অংকটা একদম পরিষ্কার ও সরল- আর্জেন্টিনা যার বিপক্ষেই খেলবে, সমর্থন করতে হবে সেই দলকেই! এই ‘অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা’ বা আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষী হিড়িকের চক্করে পড়ে ভক্তরা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর