পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে শতাধিক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, ছয়তলা, বেরণ ও নরসিংহপুর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বেশ কিছু কারখানার সামনে অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ ঝুলানো। এসময় কারখানা ফটকে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে এসে ফিরে যেতেও দেখা যায়।
নোটিশে বলা হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলো।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি ধারণা করছেন- এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে প্রায় ১৮০০ কারখানা রয়েছে।
পোশাক কারখানা শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের কারখানায় আন্দোলন চলছে।
এরইমধ্যে মূল মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করেছে সরকার, যা পহেলা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
সবশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বছরের জন্য পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করার দাবি ছিলো শ্রমিকদের।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে গত এপ্রিলে নিম্নতম মজুর বোর্ড গঠন করে সরকার। গত ২২ অক্টোবর এই বোর্ডের চতুর্থ সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করেন। আর মালিকপক্ষ ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়।
ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে- এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরে আন্দোলন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে তা আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
কঠোর হচ্ছে বিজিএমইএ, পোশাক কারখানায় নতুন নিয়োগ বন্ধ