চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও এক হাজার জনকে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের দিন নিরাপত্তা দপ্তরের অস্ত্রাগার থেকে দেশীয় অস্ত্র লুটের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর হাটহাজারী থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আব্দুর রহিম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানান রেজিস্টার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।
এদিকে দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে লুট হওয়া রামদা, দা, রড, ছুরিসহ দেশি অস্ত্র ফিরিয়ে দিতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব ফিরিয়ে দেওয়া না হলে লুটের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে চবি।
এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান হেনস্তা করেন। এমন অভিযোগে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। তুমুল সংঘর্ষের পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ ঘটনার জেরে পরের দিন রোববার সকাল ১১টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। জারি করা হয় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারাও।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত আইসিউতে আছেন দুই শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে বেশকিছু সিদ্ধান্ত জানান উপ-উপাচার্য।
সিদ্ধান্তগুলো হলো:
- সংঘর্ষে আহত সব শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় প্রশাসন বহন করবে। এর জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
- শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি মডেল থানা স্থাপনের বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করবে প্রশাসন।
- বিশ্ববিদ্যালয় রেলক্রসিং এলাকায় একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
- সংঘর্ষে ঘটনা পর্যালোচনার জন্য মঙ্গলবার একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে।
- জোবরা এলাকার বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য একটি কমিটি করা হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রত্যাহার না করার অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একটি হটলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
