গ্রিসে নেবার লোভ দেখিয়ে ঝালকাঠির সুমিত হাওলাদারের কিডনি নিয়েছেন সুজন রায়। সেই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতো তারা আপন ভাই।
বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের ঘটনায় এ প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর এবার সুমিতের কিডনি ফেরত চান তার পরিবার।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কিডনি দাতা ও গ্রহীতা দুইপক্ষই প্রতারণা করেছেন তাদের সাথে।
‘ছোট ভাই সুষেন রায়ের কিডনিতে বাঁচলেন বড় ভাই সুজন রায়’- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাদের কিডনি প্রতিস্থাপনের এমন খবর প্রচার হয় গেলো ১৭ জুলাই সোমবার। এরপরই জানা যায় আসল ঘটনা।
সুষেন সেজে যিনি কিডনি দিয়েছেন তিনি আসলে সুজনের আপন ভাই নন। তার প্রকৃত নাম সুমিত হাওলাদার। বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়।
টেলিভিশনের খবরে সুমিতের কিডনি দেয়ার খবরে তার পরিবারের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ে। সুমীতের স্ত্রী ও বড় ভাই হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, গ্রীসে যাবার লোভে পড়ে তিনি এ কাজ করেছেন। এখন কিডনি ফেরত চায় তার পরিবার। নয়তো উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
কিডনি দাতা সুমীতের স্ত্রী সীমা জয়ধর জানান, তার টাকা-পয়সার প্রয়োজন নেই। তিনি তার স্বামীকে সুস্থ চান। তাই তার স্বামীর কিডনি তাকে ফেরত দেবার অনুরোধ জানান তিনি।
কিডনি দাতা সুমীতের বড় ভাই অমিত হাওলাদার বলেন, তার ছোট ভাইয়ের কিডনি তাকে ফেরত দেওয়া হোক। নয়তো তাকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
সুমীতের কাছ থেকে কিডনি নিতে যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে, সেটি স্বীকার করেন কিডনি গ্রহীতা সুজন রায়ের ছেলে সাগর রায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, এটি ছিলো এ হাসপাতালে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে হাসপাতালের সাথেও প্রতারণা করেছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নিজের কিডনি বেচে লোভে পড়ে শুরু করেন ব্যবসা
উপাচার্য আরও জানান, এই ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাবার পরই তার ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/জো
