প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হলিউড তারকা লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও।
শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) নিজের টুইটার একাউন্ট থেকে করা এক টুইটে তিনি এই অভিনন্দন জানান।
টুইট বার্তায় ডিক্যাপ্রিও লিখেছেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ঘিরে নতুন সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করায় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় মানুষ এবং এনজিওগুলো অভিনন্দন। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটিতে জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুসংস্থান রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।’
১৯৯৮ সালে ২৪ বছর বয়সে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে বনভূমি সংরক্ষণে কাজ করছেন ডিক্যাপ্রিও। বনভূমি সংরক্ষণে তার ফাউন্ডেশন থেকে ৩৫ প্রকল্পকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। আর এ কাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের পরিবেশগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এটিই তার প্রথম টুইট।
গত ৪ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আশেপাশের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) বা সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকেও এমপিএ ঘোষণা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনের কারাগারে বিমান হামলায় জাতিসংঘের নিন্দা
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। প্রশাসনিকভাবে এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। সব মিলিয়ে নয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ইউনিয়নটির স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ১০ হাজার।
.jpg)
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র। দ্বীপটিতে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ট বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বসবাস ছিল।
কিন্তু পর্যটকদের অসচেতন কার্যকলাপে এসব প্রজাতির অনেকগুলোই এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এসব জীববৈচিত্র্য।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করে সরকার।
একাত্তর/টিএ
