এক দশকের দর কষাকষির পর অবশেষে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল যা চীনের ওপর তাদের অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) অস্ট্রেলিয় বাণিজ্যমন্ত্রী ড্যান তেহান ও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অস্ট্রেলিয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে অস্ট্রেলিয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই চুক্তিকে অবারিত হতে যাওয়া ‘অমিত সম্ভাবনার অর্থনীতির দ্বার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির সদর দরজা খুলতে যাচ্ছি আমরা।’
এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘এত অল্প সময়ের মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে ঐকমত্য দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার পরিচয় দেয়। এটি সত্যিই আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
অস্ট্রেলিয় বাণিজ্যমন্ত্রী ড্যান তেহান বলেন, এই চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সকল অর্থনৈতিক বাধা দূর হয়ে বাণিজ্য সুগম হবে যা আসন্ন বছরগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যকে দ্বিগুণ করবে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল এই চুক্তিকে ‘নিরপেক্ষ অংশীদারিত্ব’ উল্লেখ করে বলেন, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে এই চুক্তির ফলে।’
মনে করা হচ্ছে, এই চুক্তির ফলে আগামী পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের রফতানির পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার হবে।
এই নয়া চুক্তির ফলে ভারতে আমদানি হওয়া অস্ট্রেলিয়ান সামগ্রীর ৮৫ শতাংশের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলির রফতানি মূল্য প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ভেড়ার মাংস, উল, তামা, কয়লা, অ্যালুমিনা, তাজা অস্ট্রেলিয়ান রক লবস্টারের মতো বহু বস্তু রফতানির ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ভারতকে কর দিতে হবে না অস্ট্রেলিয়াকে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি মরিসনকে ঘরোয়া রাজনীতিতে কিছুটা সাহায্য করবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষকই।
উল্লেখ্য, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০১৫ সালে একরকম ভেস্তেই গিয়েছিল এই চুক্তি। গত বছরের মাঝামাঝিতে মোদি ও মরিসন এই চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করেতে ঐক্যমত্যে পৌঁছান।
একাত্তর/জো
