গ্রিসের দক্ষিণ উপকূলে মাছ ধরার জাহাজ ডুবে কমপক্ষে ৫৯ অভিবাসী নিহত হয়েছে এবং ১০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটি এই বছর গ্রিসে জাহাজডুবির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
বুধবার পাইলোসের প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে কতজন লোক ছিল তা স্পষ্ট নয়।
তবে গ্রিক কর্মকর্তারা এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বলছে, জাহাজে কয়েকশ লোক থেকে থাকতে পারে।
গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌকাটিকে দেখতে পায়।
কোস্টগার্ড বলেছে, যাত্রীরা ‘কোনও সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানায়’ এবং জাহাজে থাকা কেউই লাইফ জ্যাকেট পরেনি।
কিন্তু এর মাত্র কয়েকঘণ্টা পরেই নৌকাটি ডুবে যায়। একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও তা প্রবল বাতাসের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়।
জানা গেছে, নৌকাটি লিবিয়া থেকে ইতালি যাচ্ছিল এবং আরোহীদের অধিকাংশই তরুণ।
অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এএফপি বার্তাসংস্থাকে জানিয়েছে, জাহাজে ‘শতশত’ লোক ছিল। নিখোঁজদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক টুইটবার্তায় আইওএম বলেছে, ‘আমাদের আশঙ্কা আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ৪০০ জনের বেশি মানুষ জাহাজে ছিলেন’।
নিহতদের জাতীয়তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। জীবিতদের চিকিৎসার জন্য কালামাটা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের জন্য গ্রিস ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী খবরে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কমেছে: জরিপ
গত মাসে গ্রিক সরকার সাগরে ভেসে যাওয়া অভিবাসীদের জোরপূর্বক বহিষ্কারের ভিডিও ফুটেজের জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এই বছর ৭০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী এবং অভিবাসী ইউরোপের প্রথম সারির দেশগুলিতে এসেছে, যাদের বেশিরভাগ ইতালিতে অবতরণ করেছে।
একাত্তর/এসজে
