রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাকেন্দ্র ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে ওঠা ভাড়াটে সেনা দল ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন এখন কোথায় তা কেউই জানে না। বেলারুশ বলছে, তিনি ক্রেমলিনের কব্জায়। যদিও এখন পর্যন্ত তার কোন নড়াচড়া কেউ দেখেনি।
এরমধ্যেই খবর এসেছে প্রিগোজিন আর ওয়াগনারের নেতৃত্বে নেই। তাকে সরিয়ে বাহিনীর নতুন নেতা করা হয়েছে আরেকজনকে। তার নাম আন্দ্রেই ত্রোশেভ। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পছন্দের এই ব্যক্তিটি ‘গ্রে হেয়ার’ নামেও সবার কাছে পরিচিত। তিনিই এখন ওয়াগনারের নেতা।
প্রিগোজিনের নেতৃত্বে দু’সপ্তাহ আগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল ওয়াগনার বাহিনী। কিন্তু আচমকাই থেমে যায় বহুল আলোচিত সেই বিদ্রোহ। ওয়াগনার নেতা প্রিগোজিনকে বেলারুশে নির্বাসনে পাঠানো হয়। তারপর থেকে তার খবর আর কেউ জানে না।
আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার জবাব ক্লাস্টার দিয়েই দেবেন পুতিন
এরপর ক্রেমলিন জানায়, বিদ্রোহের পাঁচ দিন পর পুতিনের সঙ্গে প্রিগোজিনের বৈঠক হয়েছিলো। এই খবরের পর প্রিগোজিন নিয়ে আর নতুন কোন খবরও নেই। জীবিত না মৃত, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে এবার সেই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে।
প্রিগোজিনের জায়গায় আন্দ্রে ত্রোশেভকে ওয়াগনার গ্রুপের শীর্ষে আনা হয়েছে। স্বয়ং পুতিনই তাঁকে এনেছেন। প্রিগোজিনের বিদ্রোহের সময়ই প্রথম শোনা যায় ত্রোশেভের নাম। সে সময়েই ত্রোশেভের নেতৃত্বে ইউক্রেনে লড়াই করার কথাও শোনা গিয়েছিলো সেই সময়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা নথি অনুযায়ী, ত্রোশেভ আসলে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি ওয়াগনার গ্রুপ তৈরির অন্যতম স্থপতি। 'গ্রে হেয়ার' নামেও পরিচিত। ১৯৫৩ সালের এপ্রিলে লেনিনগ্রাদে জন্মে নেয়া এই সেনা ওয়াগনারের সিরিয়া ফ্রন্টের নেতা ছিলেন।
সিরিয়াতে কীভাবে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের জাঁতাকল ঘোরাতে হবে তার ছকও তিনি কষতেন। এমনকী সোভিয়েত আফগান যুদ্ধের সময়ও তিনি যুদ্ধ করেছেন। চেচেনের যুদ্ধেও তার অবদান ছিলো রাশিয়ার ‘কুইক রি-অ্যাকশন স্পেশাল’ ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন তিনি।
ইইউ নথিতে আরও উল্লেখ আছে, আন্দ্রেই ত্রোশেভ সিরিয়াতে সেনা অপারেশনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওই সময় সিরিয়ার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি প্রচুর সহায়তা পেয়েছিলেন। একাধিক হাই প্রোফাইল ওয়াগনার শীর্ষ কর্তাদের সাথে তার ওঠাবসা ছিলো।
এদিকে নিজেদের নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত নথিতে একই ধরনের কথা বলেছে যুক্তরাজ্য। সেখানে বলা হয়েছে, আন্দ্রে ত্রোশেভ ওয়াগনারের নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সিরিয়া সরকারের সমর্থনে কাজ করেছেন। দেশটির বেসামরিক লোকজনকে দমন–পীড়নে হাত রয়েছে তাঁর।
ইইউ বলছে, ত্রোশেভের সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াগনারের প্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি উতকিন। তিনি এক সময় রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ত্রোশেভের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে ওয়াগনারের কমান্ডার আলেকসান্দ্র সের্গেভিচ কুজনেৎসভ ও আন্দ্রে বোগাতভের সঙ্গেও।
একাত্তর/এআর
