রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার বিষয়ে ইউরোপের পাঁচটি দেশের সাম্প্রতিক অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রুশ সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই অভিযোগগুলোকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
গত শনিবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তারা দাবি করে, ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাভালনিকে ‘এপিবাটিডিন’ নামক বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার চিরহরিৎ বনে পাওয়া এক বিষাক্ত ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। দেশগুলোর মতে, এই বিষ প্রয়োগের প্রয়োজনীয় উপায়, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ সবই রাশিয়ার কাছে ছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিষ শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।
নাভালনি এর আগে ২০২০ সালেও ‘নোভিচক’ নামক একটি নার্ভ এজেন্টের মাধ্যমে বিষপ্রয়োগের শিকার হয়েছিলেন, যা থেকে তিনি সেবার বেঁচে ফিরেছিলেন।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা স্বভাবতই এই ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করি না। আমরা এর সাথে একমত নই। আমরা মনে করি এই অভিযোগগুলো পক্ষপাতদুষ্ট এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়া এই দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
সোমবার নাভালনির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মস্কোতে তাঁর সমাধিতে অনেক সমর্থক এবং কিছু বিদেশি কূটনীতিক শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। উল্লেখ্য, ৪৭ বছর বয়সে নাভালনি আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, হাঁটার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ‘চরমপন্থা’র অভিযোগে ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
বর্তমানে নাভালনির সংগঠনকে রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ইউলিয়া বর্তমানে বিরোধী দলের হাল ধরার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধীরা মূলত নির্বাসিত এবং খণ্ডিত অবস্থায় রয়েছে।
কট্টর ইহুদিদের রোষানলে ইসরাইলের দুই নারী সেনা