শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বকে প্রতি বছর দুই দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। তাহলেই শুধু বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি আটকানো সম্ভব। বৈশ্বিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উডম্যাকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। এই কাবর্ন নিঃসরণ শূণ্যে নামিয়ে আনতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন।
উডম্যাক বলছে, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০৫০ সালের মধ্যে শূণ্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতি বছর কমপক্ষে দুই লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। যা বাংলাদেশের ৪০টি বাজেটের সমান। তবেই কেবল বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি আটকানো সম্ভব হবে।
বিশ্বের অনেক দেশ এনিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও, তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবে বলছে উডম্যাক। ফলে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে প্রতিশ্রুতি তাও ব্যর্থ হবে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, ২০৫০ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে।
উডম্যাকের গবেষণা বলছে, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকে কার্বনমুক্ত করতে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তবে শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষে এই পরিমাণ ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা লক্ষ্য নিয়ে। এ খাতে মোট বিনিয়োগের তিন চতুর্থাংশই করতে হবে শক্তি এবং অবকাঠামো খাতে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন, সৌর শক্তিকে বিশ্বের প্রয়োজনীয় শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে উডম্যাকের গবেষণায়। পাশাপাশি পরিবহন খাতকে বিদ্যুতায়িতকরণ, হাইড্রোজেন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
কার্বন ডাই অক্সাইড পরিণত হবে পাথরে!
‘ব্লু কার্বন’ সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছে জাপান