কী হচ্ছে মিয়ানমারে!

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫১ পিএম

বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থানের তিন বছরের মাথায় জান্তা সরকার দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। বিদ্রোহীদের আক্রমণে সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বিজিপিসহ সরকারি সব বাহিনী কোণঠাসা। এমন অবস্থায় জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দ্রুত হারাচ্ছে সামরিক বাহিনী।

স্পেশাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জান্তা সরকারের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে দেশটির মাত্র ১৭ শতাংশ ভূখণ্ডের ওপর, ২৩ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের দখলে চলে গেছে ৫২ শতাংশ ভূখণ্ড।

সামরিক বাহিনী প্রতিদিনই পরাজয়ের মুখে পড়ছে এবং তারা দখল হয়ে যাওয়া ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতেও ব্যর্থ হচ্ছে। এমন অবস্থায় জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দ্রুত হারাচ্ছে সামরিক বাহিনী।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের রয়েছে দীর্ঘ সময়ের সেনা শাসনের ইতিহাস। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর প্রায় ৫৫ বছর দেশটি থেকেছে সেনা শাসনের অধীনে।

গত অক্টোবরে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সামরিক টহল চৌকি, অস্ত্রাগার ও বেশ কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিদ্রোহীদের হাতে। সবশেষ ঘুমধুম সীমান্তে বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা দলে দলে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী চীন ও ভারতেও মিয়ানমারের সেনারা আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ধরনের বিজয় বিদ্রোহী অন্য গোষ্ঠীগুলোকেও সামরিক বাহিনীর ওপর আক্রমণে উৎসাহিত করেছে।

যে বিদ্রোহীদের আক্রমণে কোণঠাসা সেনাবাহিনী, আসলে তাদের শক্তি কতটা? ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদন বলছে, মিয়ানমারের বিরোধী সশস্ত্র দলে জাতিগত ২০টি গোষ্ঠীর এক লাখ ৩৫ হাজার সদস্য, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট-এনইউজির আওতায় পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের ৬৫ হাজার সদস্য এবং সিভিল ডিসঅবিডিয়েন্ট মুভমেন্টের অধীনে প্রায় দুই লাখ সদস্য রয়েছে।

আর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দাবি করছে,  তাদের রয়েছে চার লাখ সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর পিস-এর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীতে প্রায় দেড় লাখের মতো সেনা রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বা 'কমব্যাট রেডি' ৭০ হাজার সেনাও অন্তর্ভুক্ত।

২০২০ সালের ৮ নভেম্বর দেশটির পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে সেনাবাহিনী।

এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সূচকে, বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির এক কোটি ৮৬ লাখ মানুষ একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ।

জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সহায়তা বিষয়ক সংস্থার হিসাব বলছে, সেখানে এই পৌনে দুই কোটি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদন উঠে এসেছে এমন তথ্য।

জাতিসংঘ মিয়ানমারকে বিশ্বের অন্যতম 'হাঙ্গার হটস্পট' বলে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, যেকোনো সময় দেশটিতে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাব বলছে, মিয়ানমারের খাদ্য সংকট দেশটির প্রায় এক কোটি ২৯ লাখ মানুষকে ভোগাবে। অর্থাৎ, দেশটির প্রতি চারজনে একজন মানুষ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় আছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, গৃহযুদ্ধের কারণে মাত্র তিন বছরে দেশটিতে অন্তত ২১ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে তাঁদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। এরমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স-২০২৩-এর হিসাব অনুসারে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর শীর্ষে আছে মিয়ানমার। এই অঞ্চলের ১৯টি দেশের মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান ১৮। এর আগে আছে কেবল উত্তর কোরিয়া। অর্থাৎ সেই হিসাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় শীর্ষ বিপজ্জনক দেশ মিয়ানমার।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাবন্দী করার দিক থেকেও শীর্ষে আছে মিয়ানমার। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার প্রায় ২০ জন রাজনৈতিক বিরুদ্ধ মতের নেতা-কর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছে, এরমধ্যে প্রায় চার হাজারই নারী।

সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষদেশ। ২০২৩ সালেই জান্তারা ৪৩ জন সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছে। আটক ১৯২ সাংবাদিকদের মধ্যে এখনো কারাবন্দী অন্তত ৬১ জন।

এছাড়া, নাগরিক স্বাধীনতা সূচকে মিয়ানমার ৬০ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৯ পয়েন্ট পেয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার সূচকে অবস্থান শূন্য। পরিবেশ সূচকেও তলানিতে দেশটি। এমনকি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকাতেও রয়েছে মিয়ানমার। 

 

আরবি
প্রকৃতির তাণ্ডবে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। থাইল্যান্ড, ভারত এবং মিয়ানমারে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৩০ জনের মর্মান্তিক...
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ক্যাওকটাউ শহরের...
চীন সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের শান রাজ্যে একটি ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে শিশুসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রোববার দুপুরের দিকে শান রাজ্যের কাওং তাত...
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর তিনি বেসামরিক পদে থেকে শাসন অব্যাহত রাখছেন।
ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে...
নানা নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৌঁছেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক পানাম নগরী এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (জাদুঘর) ঘুরে দেখলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একই...
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অজুহাতে গণপিটুনিতে (মব জাস্টিস) ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর