অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন আমেরিকাকে নিয়ে এমন প্রবাদ উচ্চারিত হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। আর রাশিয়া মানেই তো পুতিন। এই রুশ রাজা এখন রীতিমতো রাজ করতে শুরু করেছেন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে।
তারই সবশেষ উদাহরণ এশিয়ার অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়াতে পুতিনের সফর। আর এই সফরে দারুণ এক কৌশলগত চুক্তি করে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কার বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। রাশিয়া নিয়ে কোন ধরনের দুরভিসন্ধি করার আগে যেন সবাই পাঁচবার ভাবতে হয়, সেটা পরিষ্কার করেছেন পুতিন।
বুধবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দুই নেতা ঐতিহাসিক একটি চুক্তি সই করেছেন, যা তাদের সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করেছে। আক্রান্ত হলে একে অপরের বন্ধু হতে পারস্পরিক একটি সামরিক প্রতিশ্রুতিতে একমত হয়েছে এই দুই নেতা।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নতুন সম্পর্ককে একটি ‘জোট’ বলে অভিহিত করেছেন। পুতিনের সাথে তার বৈঠকের পরে এক বিরল সংবাদ সম্মেলনে কিম বলেন, একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি করতে পেরে তিনি যার পর নাই আনন্দিত। এই চুক্তিতে প্রতিরক্ষামূলক অঙ্গীকার রয়েছে।
পুতিনের সফর, যেটি রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার কয়েক দশকের সম্পর্কের পুনর্নির্মাণ করতে পারে এমন একটি সময়ে যখন উভয়ই আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি, সিউল এবং ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যারা তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রায় ২৪ বছর আগে ২০০০ সালের জুলাইয়ে পুতিন সবশেষ উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন। এবার পুতিন এমন একসময়ে উত্তর কোরিয়া সফরে এসেছেন, যখন উভয় দেশই আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, মোকাবিলা করতে হচ্ছে নানা নিষেধাজ্ঞা।

শত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিরক্ত করতে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিজেদের উষ্ণ সম্পর্ককে ব্যবহার করে। উত্তর কোরিয়ার ওপর নানা ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে, পিয়ংইয়ংও মস্কোর কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও পেয়ে আসছে।
নতুন কৌশলগত চুক্তির পর কিমের উদ্দেশ্যে পুতিন বলেন, রাশিয়া নীতিতে আপনার ধারাবাহিক ও অটল সমর্থনের আমরা উচ্চ প্রশংসা করছি, যার মধ্যে ইউক্রেন নীতিও রয়েছে। মস্কো মার্কিন ও দেশটির মিত্রদের আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে বলেও জানান পুতিন।
দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত তিনটার দিকে পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে পৌঁছান পুতিন। করমর্দন ও উষ্ণ আলিঙ্গনে সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বিমানবন্দরে পুতিনকে দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করা হয় পুতিনকে।

রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে বুধবার পিয়ংইয়ং জুড়েই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের পতাকা, লাল গোলাপ, বেলুন এবং পুতিন ও কিমের বিশাল বিশাল সব ছবি দিয়ে পুরো রাজধানী সাজিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয় সময় সকালে কিম ইল সাং স্কয়ারে পুতিনকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এরপর কিম ও পুতিন কুমসুসান প্যালেসে যান। সেখানে দুই নেতা বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি কৌশলগত চুক্তি সই করে। এই চুক্তিতে আক্রান্ত হলে একে অপরের সহযোগিতায় সামরিক শক্তি নিয়ে পাশে থাকবে এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের উত্তর কোরিয়া সফরে কিম জং–উনকে একটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন পুতিন। গাড়িটি রাশিয়ার বিলাসবহুল অরাস ব্র্যান্ডের। এছাড়া কিমকে একটি ‘অ্যাডমিরাল ড্যাগার’ ও একটি টি-সেট উপহার দিয়েছেন পুতিন। এসব উপহার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই।
যুদ্ধে অক্ষম ৭০ হাজারের বেশি ইসরাইলি সেনা!
আবারও কংগ্রেসে ফিরতে চান প্রণবপুত্র অভিজিৎ