জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সেই টানাপোড়েন থেকে এখন দু’দেশের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে।
কলকাতা এবং আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলা ও পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই রেশ কাটতে না কাটতেই তোপ দাগিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
বিধানসভায় দেয়া এক ভাষণে তিনি বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের আহবান জানিয়েছেন। এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, মমতার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির স্বরূপ।
বিধানসভার পরে এবার লোকসভাতেও বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানাতে বলছেন মমতার দলে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার, লোকসভায় তারা এই অনুরোধ জানান।
লোকসভায় দেওয়া বক্তৃতায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছ থেকে বিবৃতি দাবি করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে এবং তারা এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে ও কেন্দ্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানাবে। এই ইস্যুতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
আদানিকাণ্ডে গত সপ্তাহে বারবার মুলতুবির পর মঙ্গলবার পুনরায় শুরু হয় লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন। এদিনও আদানি ঘুষকাণ্ড নিয়ে সরব হয়ে মুলতবি প্রস্তাব দেয় বিরোধীরা। এরপরেই সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে তারা।
কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্যোগে পুনরায় শুরু হয় অধিবেশন। শর্ত ছিল দুটি বিষয়ে কথা বলতে দিতে হবে বিরোধীদের। এক বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও দুই উত্তরপ্রদেশের সম্বল মসজিদ কাণ্ড।
সেই মতোই এই দিন সংসদে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু এবং হিন্দুদের ওপর অত্যাচার নিয়ে বক্তব্য রাখেন উত্তর কলকাতার সংস; সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশ ইস্যুতে তৃণমূল নেত্রীর দেখানো পথে হাঁটেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছে। আমাদের আবেদন, বাংলাদেশে অবিলম্বে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর জন্য ভারত সরকার জাতিসংঘকে আবেদন করুক।
ভারত সরকার একেবারে নিশ্চুপ, তার কারণ সরকারই ভাল জানে। আমাদের মু্খ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই মেনে নেব আমরা, একসঙ্গে কাজ করব।
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীরা সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের রাজ্যে ঢোকে। সরকারকে এ নিয়ে অবস্থান জানাতে হবে। বিদেশমন্ত্রী সংসদে এসে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিন, যোগ করেন তৃণমূল নেতা সুদীপ।
তিনি বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেছেন, ভারত সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
লোকসভায় দেওয়া বক্তৃতায় তৃণমূল কংগ্রেসের এই সংসদ সদস্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে ও দেশ ভাগের পরে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করেন।
তৃণমূলের আর এক এমপি কীর্তি আজাদ বলেন, ভারত সরকার কী করছে? ওরা (বাংলাদেশ) আমাদের প্রতিবেশী। সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমাদের নেত্রী ঠিকই বলেছেন। জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ করা উচিত।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি মমতা সরকারকেই দায়ী করেন রানাঘাটের বিজেপি সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সরকারি মদতে দাঙ্গা ছড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর মোতায়েনের আহবান জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
৩১ দফা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন: তারেক রহমান