বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর, সিরিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসাবে নিয়ে সেগুলো ধ্বংসের মিশনে নেমেছে ইসরাইল। এরই ধারাবাহিকতায় গেলো তিন দিনে প্রায পাঁচ শতাধিত বিমান হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশটি।
বেছে বেছে সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। সিরিয়ার নৌবহরেও হামলার কথা নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, সোমবার রাতে আল-বাইদা ও লাতাকিয়া বন্দরে তারা হামলা করেছে, যেখানে সিরিয়ার নৌ বাহিনীর ১৫টি জাহাজ নোঙ্গর করা ছিলো।
লাতাকিয়া বন্দরে হামলার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বন্দরের একাংশে নোঙর করে রাখা জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়াজুড়ে সাড়ে তিন শ’র বেশি বিমান হামলা করেছে। আর স্থলবাহিনী গোলান মালভূমির মধ্যবর্তী বাফার জোনের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় সিরিয়ায় কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৪৮০টি হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের যুদ্ধজাহাজ আল-বাইদা লাতাকিয়া বন্দরে থাকা ১৫টি নৌযান ধ্বংস করেছে।
এছাড়া দামেস্ক, হোমস, তারতুস এবং পালমিরার মতো শহরগুলোতে অস্ত্র উৎপাদন কারখানা, গোলাবারুদের গুদাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইডিএফ সিরিয়ার বেশিরভাগ কৌশলগত অস্ত্রের মজুদগুলোতে আঘাত করেছে এবং সেগুলোকে সন্ত্রাসীদের হাতে পড়া ঠেকাতে বাধা দিয়েছে। আইডিএফের দাবি, আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির সামরিক সম্পদ নিষ্ক্রিয় করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিরিয়ায় এই হামলা চালিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লাতাকিয়া বন্দরের বিস্ফোরণের ভিডিও যাচাই করে জানিয়েছে, বন্দরের বিভিন্ন অংশ ও নৌযান ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলা নিয়ে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, সিরিয়ার নৌবহর ধ্বংস করার অভিযানটি ইসরাইলের জন্য একটি বড় সাফল্য। ইসরাইলের জন্য হুমকিস্বরূপ দেশগুলোর কৌশলগত সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে আইডিএফ।

আইডিএফ হামলার বিস্তৃত তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে এয়ারফিল্ড, সামরিক যানবাহন, বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর কিছু সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে। আর কিছু হোমস, তারতাস ও পালমিরায়। এর বাইরে গোডাউন, গোলাবারুদের মজুত এবং কয়েক ডজন সাগর থেকে সাগরে উৎক্ষেপনযোগ্যও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।
এক ভিডিও বার্তায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বাশারকে উৎখাতকারী বিদ্রোহী গ্রুপ হায়াত তাহরির আল-শাম যদি ইরানকে সিরিয়ায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তাহলে ইসরাইলকে শক্তি প্রয়োগ করেই জবাব দিতে হবে। তিনি সিরিয়ার নতুন সরকারের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রাখার কথাও বলেছেন।
বাফার জোনে সিরিয়ান অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, একটি সুবিধাজনক ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিরিয়ার নতুন শক্তির সাথে আমরা প্রতিবেশীসূলভ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি, সেটিই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু যদি তা না হয় তাদের ইসরাইল রাষ্ট্র ও এর সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের যা করতে হয় আমরা তাই করব।
সিরিয়াতে দু’দিনে ইসরাইলের প্রায় পাঁচশ’ বিমান হামলা