যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলে পুড়ে গেছে হাজারো বাড়িঘর। যেসব এলাকায় আগুন নেভাতে পেরেছেন দমকল কর্মীরা, সেসব জায়গায় ফিরতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। কিন্তু পুরো শহরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ফেরার কোন জায়গা নেই অনেকেরই।
এরই মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসাবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দাবানলকে ‘যুদ্ধের দৃশ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বাইডেন বলেছেন, আমাকে যুদ্ধের দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলা হয়েছে। পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য।

গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের দাবানলের আগের আর পরের দৃশ্য। বেশিরভাগ নেটিজেনরা যাকে তুলনা করছেন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে। যেন পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে শহরটিতে। প্রচণ্ড আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে সব অবকাঠামো।
মাইলের পর মাইল পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে নগরীতে। অনেকেই বলছেন, এ দৃশ্য তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেকে ইসরাইলের হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার সঙ্গেও তুলনা করছেন। ড্রোন থেকে তোলা দৃশ্যগুলো তেমনই মনে করিয়ে দিচ্ছে সবাইকে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বাসিন্দা দাবানলের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। খবরে দেখলাম আগুন নিভে যাওয়ার পর নিজেদের শহরের অবস্থা। আর থাকতে পারলাম না ফিরে না এসে।
তিনি আরও বলেন, সে সময় পালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানে কাজ হয়েছে। কিন্তু এখন আফসোস হচ্ছে। কেন নিজেদের বাড়িটি বাঁচানোর চেষ্টা করলাম না। এখন মনে হচ্ছে সবাই মিলে চেষ্টা করলে হয়তো শহরের কিছুটা অংশ অন্তত বাঁচাতে পারতাম। যদিও সেটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো।

নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় এক তোড়া গোলাপ রেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের ডেমিনা ও লিচটেনবার্গ দম্পতি।
তারা বলেন, আগুনে আমাদের রেফ্রিজারেটর গলে একটা ছোট বস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিজেদের পুড়ে যাওয়া বাড়িটিকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি এখানে। বাড়িটি আমাদের এবং আমরা বাড়িটি আগলে রাখার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। এখান থেকে আমাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে, দাবানলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন আলটাডেনার ৬৯ বছর বয়সী বাসিন্দা মাকাস ডাসিগেনিস। আগুন তাদের বাড়ির খুব কাছেই চলে এসেছিলো। কিন্তু তিনি পালিয়ে না গিয়ে নিজের এবং দুই প্রতিবেশীরও ঘর বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি জানতাম এটা সম্ভব। প্রতিবেশীদের সুইমিং পুল থেকে পাইপে করে পানি নিয়ে সারারাত ছিটিয়েছি। দুইদিন নির্ঘুম থেকেছি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সাহায্য করেছেন। যদিও একা কাজটা করতে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেমে যাইনি। চেষ্টা না করলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না আমি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের পাঁচটি কাউন্টিতে এখনো দাবানল জ্বলছে আর এগুলো নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার ফাইটাররা। দমকা বাতাসে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দাবানলে এই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। গত ৬ দিনে দাবানলে পুড়ে গেছে ৪০ হাজারেরও বেশি এলাকা।
আবারও ফুঁসে উঠতে পারে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল
দাবানলে পুড়ে ছাই বহু বলিউড তারকার বাড়ি