হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেয়ার পর প্রথমবারের মতে মুখ খুলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একহাত নিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুল্ক আরোপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি নিয়ে নানা সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরে স্থানীয় মঙ্গলবার প্রথমবারের জন্য জনসমক্ষে আসেন বাইডেন। শিকাগোতে এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করেন বাইডেন। এ সময় আমেরিকার বাসিন্দাদের সামাজিক নিরাপত্তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে যা করছেন তাকে মোটেই ইতিবাচক বলা যায় না। ট্রাম্পের শাসনকালে আমেরিকায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাইডেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ওয়েলফেয়ার নীতির সমালোচনাও করেছেন।
প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় হোয়াইট হাউস থেকে চলে যাওয়া বা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রসঙ্গে বাইডেন কিছু বলেননি।
বক্তৃতায় ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, ১০০ দিনের কম সময়ে নতুন প্রশাসন অনেক ক্ষতি করে ফেলেছে, অনেক ধ্বংস করেছে।
তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ফেডারেল কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তার মতে, বর্তমান প্রশাসন প্রথমে গুলি ছোড়ে, পরে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যার ফলে অযথা জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ১০০ দিনেরও কম সময়ে হাজারো মানুষের চাকরি কেড়ে নিয়ে অবর্ণনীয় ক্ষতি করেছে। এটা এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা।
সামাজিক নিরাপত্তাকে ‘পবিত্র প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষের জীবনযাপনে সামাজিক নিরাপত্তা কতটা প্রভাব রাখে, সেটি আমাদের জানা। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি এজেন্সি) অবসরে যাওয়ায় বা প্রতিবন্ধিতার কারণে কাজ করতে পারেন না, এমন ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন নাগরিক সংস্থাটির সুবিধাভোগী। তাদের বড় অংশই বয়স্ক।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ধনকুবের ইলন মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব এফিশিয়েন্সি (ডিওজিই) গত ফেব্রুয়ারি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি এজেন্সিতে ব্যয় কমানোর অভিযান চালায়। এতে সাত হাজার কর্মী চাকরি হারান। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে মাস্ক ‘সর্বকালের বৃহত্তম জালিয়াতির প্রকল্প’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বাইডেনের বক্তৃতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এসএসএ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, বাইডেন শিকাগোর বক্তৃতায় মিথ্যা বলেছেন। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেন অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফোন সেবার মাধ্যমে সোশ্যাল সিকিউরিটির কার্যক্রম উন্নত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তারা এই দাবিও করা হয়েছে, প্রযুক্তি বিভাগের বেশিরভাগ কর্মীই ছাঁটাইয়ের মুখোমুখি হননি এবং কোনো কার্যালয় স্থায়ীভাবে বন্ধও করা হয়নি।
বাইডেনের সমালোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের জবাব মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এই ধরনের বাকবিতণ্ডা আরও বাড়তে পারে। বাইডেনের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সমালোচনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ব্যাখ্যাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিদেশি দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণই ভবিষ্যৎ ঠিক করবে: যুক্তরাষ্ট্র
জেলেনস্কিকে আবারও একহাত নিলেন ট্রাম্প
ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে: ট্রাম্পের দূত