ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজটি সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই একটি আবাসিক এলাকায় চিকিৎসকদের হোস্টেলে ওপর বিধ্বস্ত হয়েছে।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হবার পর ঘটনাস্থলের একটি ভবন থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি থেকে অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আরও অনেকে ওই ভবনে আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে আহমেদাবাদের বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পরেই দুর্ঘটনায় পড়ে। উড়োজাহাজটিতে ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই জন পাইলট ও ১০ জন ক্রুও ছিলেন। যাত্রীদের ভাগ্য কি ঘটেছে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দক্ষিণে গ্যাটউইক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলো। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বিমানবন্দরের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

গুজরাট পুলিশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, যে ভবনের ওপর উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি একটি চিকিৎসকদের হোস্টেল। ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে বেশিরভাড় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং শিগগিরই বাকি অংশও পরিষ্কার করা হবে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ দর্শনা ভাগেলা সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কয়েক জন চিকিৎসকের ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উড়োজাহাজটি যখন বিধ্বস্ত হয় তখন আমি আমার অফিসের কাছেই ছিলাম এবং একটি প্রচণ্ড শব্দ হয়। আমরা অনেক ডাক্তারকে তাদের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছি।
আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে ভর্তি পুনম প্যাটেল সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, তার শ্যালিকা লন্ডনগামী ফ্লাইটে ছিলেন। এক ঘণ্টার মধ্যে, আমি খবর পাই যে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি।

ভারতের সিএনএন নিউজ-১৮ টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, বিমানটি রাষ্ট্রায়ত্ত বি.জে. মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ডাইনিং এরিয়ার উপরে বিধ্বস্ত হয়, এতে অনেক মেডিকেল ছাত্রও নিহত হয়েছেন।
একটি চিত্রে ভবনের উপরে বিমানের একটি অংশের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন যে ঘটনাস্থল থেকে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ জন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও অনেক লোক আটকা পড়েছে।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১ জন শিশু এবং দুটি নবজাতক ছিলো। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরোহীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও।
বিমান চলাচল ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইট রাডার টোয়েন্টি ফোর জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, যা পরিষেবায় থাকা সবচেয়ে আধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজগুলো মধ্যে মধ্যে একটি।

এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক ডাটাবেজ অনুসারে, এটি ছিলো ড্রিমলাইনারের প্রথম দুর্ঘটনা, যা ২০১১ সালে বাণিজ্যিকভাবে উড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত বিমানটি ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো উড়াল দেয় এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আহমেদাবাদের আবাসিক এলাকায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা