দীর্ঘ ৪১ বছর পর আবারও এক নভোচারীকে মহাকাশে পাঠালো ভারত। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠার স্পেস এক্সের অ্যাক্সিওম-৪ রকেটের সফল উৎক্ষেপণের পর উল্লসিত ১৪০ কোটি ভারতীয়রা নতুন করে মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এই মিশনে ভারতীয় নভোচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা একটি বহুদেশীয় ক্রুর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে যাত্রা করেছেন। তিনি এখন মহাকাশে পা রাখা দ্বিতীয় ভারতীয়।
বিবিসি, সিএনএন ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩১ মিনিটে অ্যাক্সিওম-৪ উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশযানটি প্রায় ২৬ ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছানোর কথা।

সেখানে পৌঁছার পরই ভারতের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লা নাসার এই কক্ষপথের ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ করা প্রথম ভারতীয় হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন। এর আগে ১৯৮৪ সালে নভোচারী রাকেশ শর্মা রাশিয়ান সয়ুজ মহাকাশযানে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে গিয়েছিলেন।
অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের নেতৃত্ব আছেন নাসার সাবেক নভোচারী পেগি হুইটসন। তিনি দুবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব সামলেচেন এবং মহাকাশে ৬৭৫ দিনের বেশি সময় কাটিয়েছেন। অ্যাক্সিওম স্পেস নামে হিউস্টনভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা এই বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যা নাসা, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) এবং স্পেসএক্সের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

চার সদস্যের এই দলে শুভাংশু শুক্লা ছাড়া রয়েছেন পোল্যান্ডের স্লাওজ উজনাংসি-ভিসনস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু। চার দশকের বেশি সময় পর এই দুই দেশও তাদের নভোচারীদের মহাকাশে পাঠাচ্ছে।
উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লা ভারতের জন্য একটি বার্তা পাঠান। তিনি বলেন, ৪১ বছর পর আমরা মহাকাশে ফিরেছি এবং এটি একটি অসাধারণ যাত্রা। এই মুহূর্তে আমরা প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছি। আমার কাঁধে ভারতীয় পতাকা রয়েছে। এটি শুধু আইএসএসের দিকে আমার যাত্রার শুরু নয়, এটি নতুন করে ভারতের মহাকাশযাত্রার সূচনা।

৩৯ বছর বয়সী এই নভোচারী গত বছর ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ ফ্লাইটের জন্য নির্বাচিত চারজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন। ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে একজন নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লার মহাকাশ যাত্রা ভারতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ইসরো জানিয়েছে, আইএসএসে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যাপক সহায়তা করবে। ফ্লাইটের প্রতি বিশাল আগ্রহের কারণে তারা মহাকাশে থাকার সময় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথাবার্তা ও তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি মতবিনিময়ও এই তালিকায় রয়েছে।
