ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের যাওয়ার সময় গাজা উপত্যকায় দেশটির চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে সমাবেশ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের চতুর্থ দিন শুক্রবার সকালে নেতানিয়াহু বক্তব্য দেন। তার প্রতিবাদেই ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শহরটির হাজার হাজার শান্তিকামী মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নানা দেশ ও জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশিরাও অংশ নেন এ বিক্ষোভ সমাবেশে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ। এতে অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা ১০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের মধ্যে ১৫৭টিই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ফিলিস্তিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের সমর্থন। তারপরও ভাষণে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু।
বিক্ষোভ সমাবেশের আগে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতিসংঘ ভবনের সামনের দিকে টাইমস স্কোয়ারে জড়ো হতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। সেখান থেকে তারা জাতিসংঘের দিকে মিছিল করে। এ সময় ‘নেতানিয়াহু, তুমি লুকাতে পারবে না, আমরা তোমাকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করছি’ স্লোগান দেন তারা।

বিক্ষোভে নেয়া নিউইয়র্কবাসী ম্যাক্সওয়েল বলেন, আমি একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে এখানে এসেছি ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়াতে। একজন আইরিশ হিসেবে এখানে এসেছি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে কথা বলতে। শুধু ফিলিস্তিনে গণহত্যা নয় আমেরিকায় যাদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে তাদের পক্ষেও কথা বলতে এসেছি।
ইসরাইলি বাহিনী সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এই বিক্ষোভে অনেক ইহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষও ফিলিস্তিনকে সমর্থন করতে এসেছিলেন। আবার হামাসের হাতে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে একই জায়গায় বিক্ষোভ করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইসরাইলিরাও।
তাদেরই একজন বলেন, আমরা এই দেশে জিহাদ চাই না। শরিয়া আইন চাই না। আমরা শান্তি চাই। আমরা এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে নই আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। আমরা চাই হামাস আত্মসমর্পণ করুক। আমরা স্থায়ী শান্তির জন্য লড়াই করে যাব।
ফিলিস্তিনে চলমান আগ্রাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারি হয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এবার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শিগগিরই এই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি নেমে আসবে বলে প্রত্যাশা এখানে জড়ো হওয়া সবার।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মারামারি-হট্টগোল