বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক নিশ্চিত হবার পরপরই, এবার উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের আবারও দেখা হবার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এরইমধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে দেখা করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এমন খবর দিয়েছে।
বিভক্ত কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে সিউলের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, ইউনিফিকেশন মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং শুক্রবার বলেছেন, ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়া সফর ‘স্বর্গ থেকে আসা একটি সুযোগ’, যা উত্তর কোরিয়ার বিশ্বব্যাপী অবস্থান এবং এর অর্থনীতিকে উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। শান্তির জন্য এই বিরল সুযোগটি কাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম কাজ লাগাতে পারেন।
ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনটি বৈঠক এবং একাধিক চিঠি বিনিময় করেছিলেন। সে অভিজ্ঞতাকে 'চমৎকার' বলে বর্ণনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবির মুখে পরবর্তী আলোচনার সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। গত সেপ্টেম্বরে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দেশের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসে, তবে আলোচনায় কোনও বাধা নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আসন্ন দক্ষিণ কোরিয়া সফরে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা। তবে তাদের আগ্রহের বিষয়ে এখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি পিয়ংইয়ং। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকৃত অঞ্চলে (ডিমিলিটারাইজড জোন) বৈঠকের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হলেও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম ইয়োনহাপকে চুং বলেন, উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের এই সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয়। তাদের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চুং বলেন, এই সফর দুই পুরোনো শত্রুর মধ্যে বৈঠকের জন্য সাধারণত যে প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তা এড়িয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ। কারণ প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের অভাবে এই দুই নেতার দেখা করার বিষয়টিকে খুব কঠিন করে তোলে।
শুক্রবার রাতে ট্রাম্প মালয়েশিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঁচ দিনের সফরে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই অঞ্চলে এটি তার প্রথম সফর। চুং বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশটির জনগণের জীবন উন্নত করতে হলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং এটি শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমেই সম্ভব।
ট্রাম্পের চাপে পশ্চিম তীর দখল থেকে পিছু হটলো ইসরাইল