যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পশ্চিমী অভিমুখের ‘আপার প্রেস’ এলাকায়- যেখানে সিনিয়র যোগাযোগ কর্মকর্তাদের অফিস অবস্থিত, সেখানে যাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে সেই সব সাংবাদিকদের আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। খবর ফক্স নিউজের।
এই নীতিগত পরিবর্তনটি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) নির্দেশনায় ঘটেছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সরকারি স্বচ্ছতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুয়াং এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, কিছু সাংবাদিক গোপনে অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং করছিলেন, সংবেদনশীল নথিপত্রের ছবি তুলছিলেন এবং বেআইনিভাবে সীমাবদ্ধ এলাকায় ঢুকছিলেন।
তিনি আরও জানান, এমনকি কেউ কেউ ব্যক্তিগত বৈঠকের বাইরে মন্ত্রীদের ‘আক্রমণ’ করে সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। এই নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এবং এনএসসির সংবেদনশীল উপকরণ রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, ‘লোয়ার প্রেস’ এলাকায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের অফিসে প্রবেশ এখনও খোলা রাখা হয়েছে।
এই নিয়মটি ৩১ অক্টোবর একটি মেমোর মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে মিডিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অংশ।
সম্প্রতি পেন্টাগনের নিয়মাবলীতে সাংবাদিকদের অ-গোপনীয় তথ্য চাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ফক্স নিউজসহ ৩০টিরও বেশি সংবাদমাধ্যম তাদের কর্মক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছে। এছাড়া, রয়টার্স, এপি এবং ব্লুমবার্গকে স্থায়ী প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি তথ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ডব্লিউএইচসিএ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ওয়েইজিয়া জিয়াং (সিবিএস নিউজ) বলেছেন, যেকোনো প্রচেষ্টা যা সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের খোলা এলাকায় প্রবেশ সীমিত করে, তা আমরা অবশ্যই বিরোধিতা করবো। এটি কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করা এবং জনগণের জবাবদিহিত্ব নিশ্চিত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৯৩ সালে ক্লিনটন প্রশাসনের অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জনমতের চাপে দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়েছিলো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক ঘটনাবলী ট্রাম্পের ‘ফেক নিউজ’ সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত, যা গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানকে দুর্বল করতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ‘দশকের ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া’ এবং সাংবাদিকদের ‘অপমান’।
অন্যদিকে, রয়টার্সের মতে, এটি সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করলেও স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের উপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী মিডিয়া স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিক সংগঠনগুলো এটিকে সতর্কতার স্বর হিসেবে দেখছেন, যাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংবাদের স্বাধীনতাকে হুমকি না দেয়।
