নরওয়ের রাজপরিবার, যারা সাধারণত নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন, তারা বর্তমানে এক নজিরবিহীন জনরোষ ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন। একদিকে ক্রাউন প্রিন্সের সৎ ছেলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ধর্ষণের বিচার, অন্যদিকে ক্রাউন প্রিন্সেসের সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রমাণ; সব মিলিয়ে নরওয়ের রাজতন্ত্র এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন।
মঙ্গলবার অসলো জেলা আদালতে ক্রাউন প্রিন্স হাকোনের সৎ ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবির (২৯) বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঠিক একই সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইলসে ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মারিটের সঙ্গে জেফরি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ ইমেল আদান-প্রদানের তথ্য ফাঁস হওয়ায় রাজপরিবারের ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়েছে।
এতে করে নরওয়ের রাজপরিবারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- তার প্রাক্তন সঙ্গিনীকে বারবার শারীরিক নির্যাতন, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা এবং ধর্ষণের অভিযোগ। অনুমতি ছাড়াই যৌন সম্পর্কের ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা এবং মাদক সেবন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধন।
আদালতে মারিয়াস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি মাদক সেবন ও কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক আঘাতের কথা আংশিক স্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১০ বছরেরও বেশি জেল হতে পারে। উল্লেখ্য, মারিয়াস রাজকীয় উত্তরাধিকারী নন, কারণ তার জন্ম হয়েছিল ২০০১ সালে তার মা মেট-মারিটের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের বিয়ের আগে।
মারিয়াসের বিচারের কয়েক দিন আগেই মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে ২০১২ সালের বেশ কিছু ইমেল পাওয়া গেছে যা প্রিন্সেস মেট-মারিট এবং এপস্টাইনের মধ্যে বিনিময় হয়েছিল। ইমেলে মেট-মারিট এপস্টাইনকে ‘সুইটহার্ট’ এবং ‘কোমল হৃদয়ের’ মানুষ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। এমনকি একটি ইমেলে রসিকতা করে তার ১৫ বছর বয়সী ছেলের কম্পিউটারের ওয়ালপেপারের জন্য ‘নগ্ন নারী’র ছবি রাখার বিষয়েও কথা বলেছেন।
মেট-মারিট এই সম্পর্কের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছেন, এটি আমার বিচারবুদ্ধির অভাব ছিল। আমি এপস্টাইনের অতীত সম্পর্কে খোঁজ না নিয়ে ভুল করেছি। আমি লজ্জিত।
এই ঝড়ের মাঝেই মঙ্গলবার নরওয়ের পার্লামেন্টে রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার পক্ষে একটি বড় ভোট গ্রহণ করা হয়। বেশিরভাগ সংসদ সদস্য রাজতন্ত্রের পক্ষেই সমর্থন দেন। রাজতন্ত্র বিশেষজ্ঞ টোভ তালেসেনের মতে, জনগণ বুঝতে পারছে মারিয়াস রাজকীয় সদস্য নন, এটি তার ব্যক্তিগত অপরাধ। কিন্তু প্রিন্সেসের সাথে এপস্টাইনের সম্পর্কের বিষয়টি রাজতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ক্রাউন প্রিন্স নিজেকে এই বিচার প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, মারিয়াস রাজপরিবারের অংশ হলেও তিনি নরওয়ের একজন সাধারণ নাগরিক এবং আইনের ঊর্ধ্বে নন।
