বিকৃতি যৌনাচারের জন্য মার্কিন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো এবং অব্যাহত আইনি চাপের মুখে উইন্ডসর ক্যাসেলের বিলাসবহুল রাজকীয় বাসভবন ‘রয়্যাল লজ’ ছাড়তে বাধ্য হলেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। সোমবার রাতে তিনি নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সেখানেই নির্বাসিত জীবন কাটাতে হবে।
দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং এপস্টাইন নথিপত্রে নতুন করে নাম আসার পর শেষ পর্যন্ত নিজের স্থায়ী আবাস ‘রয়্যাল লজ’ ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এই স্থানান্তর হওয়ার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক নথিপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে তিনি নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্ম কটেজে অবস্থান করছেন।
বিগত অক্টোবর মাসেই অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি কেড়ে নেয়া হয় এবং তাকে রয়্যাল লজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটটি রাজা তৃতীয় চার্লসের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তাই অ্যান্ড্রুর আবাসন ও আনুষঙ্গিক খরচ রাজাই বহন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কার শেষ হলে তিনি ওই এস্টেটের মার্শ ফার্মে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবেন। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র মতে, অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত ছায়া থেকে রাজবংশকে দূরে রাখতেই তাঁকে জনসাধারণের চোখের আড়ালে নরফোকের নিরিবিলি পরিবেশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টাইন সংক্রান্ত কয়েক মিলিয়ন নথিতে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ২০১০ সালে এপস্টাইন এক নারীকে যৌন মিলনের জন্য লন্ডনের রয়্যাল লজো পাঠিয়েছিলেন। এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে কোনো ব্রিটিশ রাজকীয় বাসভবনে এপস্টাইন নেটওয়ার্কের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠল।

প্রকাশিত নথিতে এমন কিছু ছবি পাওয়া গেছে যেখানে অ্যান্ড্রুকে এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এপস্টাইন শিশু নির্যাতনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও তাঁর সাথে অ্যান্ড্রুর নিয়মিত ইমেল যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাবেক এই প্রিন্সকে এখন মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তীব্র চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি বলেন, যাদের কাছে তথ্য আছে, ভুক্তভোগীদের স্বার্থে তাদের সেই তথ্য শেয়ার করা উচিত। বাকিংহাম প্যালেস থেকেও জানানো হয়েছে, সাক্ষ্য দেয়া এখন সম্পূর্ণভাবে অ্যান্ড্রুর বিবেকের বিষয়। উল্লেখ্য, অ্যান্ড্রু বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রয়্যাল লজের ৭৫ বছরের লিজ ছাড়ার বিনিময়ে অ্যান্ড্রু প্রায় ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পেতে পারতেন। তবে ক্রাউন এস্টেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাসভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে এত বিপুল পরিমাণ ত্রুটি পাওয়া গেছে যে, সম্ভবত তিনি কোনো ক্ষতিপূরণই পাবেন না। ২০০৩ সালে লিজ নেয়ার সময় অ্যান্ড্রু ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ মেরামতের জন্য ব্যয় করেছিলেন।
অ্যান্ড্রুর এই কেলেঙ্কারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও বিশেষ অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। স্যান্ড্রিংহামে সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে রাজপরিবার তাঁকে ব্যক্তিগত স্তরে নিরাপত্তা দিলেও, রাজনৈতিক ও আইনিভাবে তিনি এখন কার্যত একা। এপস্টাইন সারভাইভার লিসা ফিলিপসের মতে, অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেয়াটাই হবে ভুক্তভোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
