যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ সোমবার তৃতীয় দিনে পদার্পণ করেছে, যা পশ্চিম এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বকে একটি ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরান দাবি করেছে, তারা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। আর কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে, তবে কি কারণে হয়েছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দেয়নি।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লেজের দিক থেকে আগুন নিয়ে ধীরগতিতে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি কুয়েতের আকাশসীমায় ঘটেছে। তবে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের না কি ইসরায়েলের, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কিছু অসমর্থিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের গোলায় ভুলবশত বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও হতে পারে। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানে থাকা দুই পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে (ইজেক্ট) সক্ষম হয়েছেন। কুয়েতের প্রতিরক্ষা দপ্তরও এবশ কিছু ফাইটার জেট বিধ্বস্তের খবর দিয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বেশ কিছু মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, প্রতিটি ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং ক্রু সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিমানগুলো ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু জানায়নি। পাশাপাশি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল বিমান বিধ্বস্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গত শনিবার তেহরানের সরকারি স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ মিসাইল হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই হামলার প্রথম দিনেই তেহরানের একটি কম্পাউন্ডে মিসাইলে আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
গোয়েন্দা সূত্রমতে, এটি ছিল দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার ফল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে খামেনিকে ‘অন্যতম এক জঘন্য ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এর জবাবে ইরান ইসরাইলের তেল আবিব এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালায়। সোমবার সকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তেহরান ইসরাইল এবং মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এমন ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালিয়েছে যা সামরিক পর্যবেক্ষকদেরও অবাক করে দিয়েছে। জেরুজালেমেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে এএফপি’র সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন।
গত ৭২ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের হামলার তীব্রতা ও ব্যাপকতা বহুগুণ বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। এই যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নিয়ে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথের হাব এবং এশিয়া-ইউরোপ ফ্লাইটের প্রধান কেন্দ্র দুবাই বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, তেহরান দাবি করেছে যে, মার্কিন-ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে আঘাত হেনেছে। এতে শিশুসহ ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ২০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অস্বীকৃতি তেহরানের