ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ব্রাসেলসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই আহবান জানান। তিনি জানান, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সব পক্ষের ‘মান রক্ষা’ হয় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে ইইউ।
সাক্ষাৎকারে কায়া কালাস বলেন, আমরা উপসাগরীয় দেশসমূহ, জর্ডান ও মিশরের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার জন্য আমরা এমন কোনো প্রস্তাব দিতে পারি কি না, যাতে সবাই মান রক্ষা করতে পারে, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের দ্বারা অনেকাংশে অবরুদ্ধ। এই প্রণালী মুক্ত করার মিশনে অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহবান প্রত্যাখ্যান করেছে একাধিক ইউরোপীয় দেশ। ইউরোপীয় নেতাদের সাফ কথা—যে যুদ্ধ তারা শুরু করেননি, তার মাঝখানে নিজেদের বাহিনীকে তারা বিপদের মুখে ফেলতে ইচ্ছুক নন। যদিও ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপের এই অনিচ্ছা ন্যাটো জোটের জন্য নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
এ প্রসঙ্গে কালাস বলেন, ইউরোপ ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকাণ্ড বা ইরানে তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। তবে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণের সঙ্গে ইউরোপ এখন অনেকটা শান্ত মনোভাব নিয়ে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
কায়া কালাস হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে একটি কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ মধ্যস্থতায় হওয়া ইউক্রেনের ‘কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির’ উদাহরণ টেনে বলেন, সেই মডেল এখানেও কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে বেসামরিক জাহাজগুলো যেন হামলার শিকার না হয়েই জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য পরিবহন করতে পারে। তিনি এই ধারণাটি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
এস্তোনিয়ার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, এই যুদ্ধ শুরু করার আগে ইউরোপের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, বরং অনেক ইউরোপীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই যুদ্ধ শুরু না করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।
যুদ্ধ শেষ করার সময় হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে কালাস বলেন, অবশ্যই। যুদ্ধের সমস্যা হলো, তা শুরু করার চেয়ে থামানো অনেক বেশি কঠিন এবং এটি সব সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই যুদ্ধ বন্ধ হলে তা সবার স্বার্থেই হবে।
