ইরানের হামলায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম। তবে অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজছে ইরান।
অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে অনুসন্ধান অভিযান এখনও চলছে।
নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ভূপাতিত বিমানটি ছিল এফ-১৫ মডেলের যুদ্ধবিমান, যেখানে সামনে একজন পাইলট এবং পেছনে একজন অস্ত্র-ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজছে। কেউ যদি নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে জীবিত ধরে দিতে পারে, তাকে ‘মূল্যবান পুরস্কার’ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবির বিশ্লেষণে এটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যদিও কিছু ইরানি সূত্র এটিকে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বলে দাবি করেছিল।
মার্কিন গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরে বলা হয়, বিশেষায়িত মার্কিন বাহিনী সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইরানি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ওই এলাকায় মার্কিন হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য উড়োজাহাজকে নিচু দিয়ে উড়তে দেখা গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ভেতরে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এটিই প্রথম নিশ্চিত ঘটনা হতে পারে।
এদিকে একইদিনে অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ গ্রাউন্ড অ্যাটাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইরানে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের একাধিক বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরাকে বিধ্বস্ত একটি ট্যাঙ্কার বিমান এবং কুয়েতের নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত গুলিতে ভূপাতিত তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সেনাপ্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে বরখাস্ত
ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান ব্যর্থ, দাবি ইরানের