পোশাকে আরবি লেখা দেখে বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত থেকে এক নারীকে বাঁচানোয় লাহোর গুলবার্গ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সৈয়দা শেহরবানো নকভির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানায় বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সহিংস ঘটনায় নিষ্ক্রিয় করায় শেহরবানোর পেশাদারিত্ব কর্তব্যনিষ্ঠান প্রশংসা করেছেন।
রোববার পাকিস্তানের পাঞ্জাবের কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায় একটির রেস্তোরাঁর এক কোণে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে একজন নারী বসে আছেন। আর সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়।
যাদের কেউ কেউ চিৎকার করে তার ‘শার্ট’ খুলে ফেলতে বলছেন। কেউ কেউ বলছেন, যারা ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) করে তাদের শিরশ্ছেদ করা উচিত।
পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে ওই রেস্তোরাঁয় আসা নারীটির পোশাকে আরবি ক্যালিগ্রাফি ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সেখানে কোরানের আয়াত লেখা।
অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বিক্ষুব্ধ লোক জড়ো হয়ে যান সেখানে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
পাকিস্তানে ধর্ম নিয়ে অত্যন্ত কঠোর আইন চালু রয়েছে। ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মামলার বিচারের আগে সন্দেভাজনকারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও সেদেশে নতুন কিছু না।
ভুক্তভোগী ওই নারীর পোশাকে আরবি আরবি অক্ষরে ‘হালওয়া’ শব্দ লেখা ছিলো। এর অর্থ হলো ‘মিষ্টি’। কিন্তু এটাকেই ভুল ভেবে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশের জরুরি নম্বরে একটি ফোন আসে এবং জানানো হয় যে, পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে একটি রেস্তোরাঁয় এক নারীকে ঘেরাও করা হয়েছে।
লাহোরের জনাকীর্ণ ইচরা বাজারে একটি দোকানের বাইরে ওই ঘটনার খবর পেয়ে এএসপি শেহরবানোর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই নারীবে সুরক্ষামূলক হেফাজতে নেয় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তাকে থানায় নিয়ে যায়। পরে একটি ভিডিওতে দেখা যায় ওই নারী ধর্মীয় নেতাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

সোমবার পাঞ্জাব পুলিশ প্রধান এএসপি নকভিকে ‘কায়েদ-ই-আজম’ পুলিশ মেডেলের (কিউপিএম) জন্য সুপারিশ করেন।
পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, এএসপি শেহরবানো রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
সেনাপ্রধান বলেছেন, পাকিস্তানি নারীরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ত্যাগেরও প্রশংসা করেন।
