ভারতের লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে ওড়িশায় প্রায় বিলীন হয়ে গেছে বিজু জনতা দল। ওড়িশায় নবীন পট্টনায়কের ২৪ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটেছে। ক্ষমতায় যাচ্ছে বিজেপি। এর মধ্যেই সেখানে শিরোনাম হয়েছেন তরুণ নারী প্রকৌশলী সোফিয়া ফেরদৌস।
৩২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে ওড়িশার বারাবতী-কটক আসন থেকে বিধায়ক (এমএলএ) পদে নির্বাচন করেন তিনি। ইতিহাস গড়ে এই আলোচিত অঞ্চলটিতে প্রথম মুসলিম নারী এমএলএ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিজেপির পূর্ণচন্দ্র মহাপাত্রকে আট হাজার ভোটে পরাজিত করেন তিনি।
এর আগে ওড়িশায় কোনো মুসলিম নারী বিধায়ক হননি। সোফিয়ার কাছে রাজনীতি নতুন নন। রাজনৈতিক পরিবারেরই মেয়ে তিনি। সোফিয়ার বাবা হলেন মোহাম্মদ মোকিম। তিনি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। ২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটে মোকিমের বদলে সোফিয়াকে টিকেট দেয় কংগ্রেস।

সোফিয়া কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি থেকে পুরকৌশলে পড়াশোনা করেছেন। ২০২২ সালে ব্যাঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ইন্ডিয়ান গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের ভুবনেশ্বর চ্যাপ্টারের সহ-সভাপতি তিনি। সোফিয়ার স্বামী শিল্পপতি শেখ মিরাজ উল হক।
ওড়িশার প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী নন্দিনী শতপথী এই আসন থেকেই ১৯৭২ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। জয়ের পর সোফিয়া বলেন, নারী হিসেবে বুঝতে পারছি যে আমি একটি ইতিহাস তৈরি করেছি। বিধানসভায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব চিত্তাকর্ষক নয়। ১৪৭ বিধায়কের মধ্যে এবার কেবল ১১ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নবীন পট্টনায়েক এবং তার দল বিজেডির ভরাডুবি হয়েছে। ২৪ বছর ধরে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নবীন। এবার ভোটে হেরেছেন। ওড়িশায় মোট বিধানসভা আসনের সংখ্যা ১৪৭। তার মধ্যে ৭৮টি আসনে জয়ী বিজেপি।
লোকসভা নির্বাচনেও ওড়িশায় বিজেপির জয়জয়কার। ২১টি আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ২০১৯ সালে তারা পেয়েছিলো ১২টি আসন। বাকি একটি আসনে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী। বিজেডি একটি আসনও পায়নি। এরিমধ্যে দলটিতে নবীনের উত্তরসূরি পদত্যাগ করেছেন।
ভারতের এমপিদের অবিশ্বাস্য বেতন-ভাতা!