তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধে রাজ্যপাল ও বিজয়

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন নিয়ে থালাপাতি বিজয়ের ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজ়হাগাম’ (টিভিকে) এবং রাজভবনের মধ্যে টানাপড়েন এখন তুঙ্গে। ১১৮ জন বিধায়কের নিঃশর্ত সমর্থন ছাড়া বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দিতে নারাজ রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের জন্য মসনদে বসার পথটি যতটা মসৃণ মনে হয়েছিল, বর্তমানে তা ততটাই কণ্টকাকীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনে ১০৮ আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার এখনো বিজয়ের হাতের নাগালে নেই। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত, তিনি কাউকে সরকার গড়তে আহ্বান জানাবেন না।


বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যপাল বিজয়কে তলব করে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি করেন। বিশেষ করে, নিজের ১০৮ জন এবং কংগ্রেসের পাঁচ জন,  এই মোট ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালানো সম্ভব, তা জানতে চান রাজ্যপাল। জবাবে, বিজয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি বিধানসভায় ‘ফ্লোর টেস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। তবে সূত্রের খবর, বিজয়ের দেয়া যুক্তিতে রাজ্যপাল এখনো সন্তুষ্ট নন। এর আগে বুধবারের বৈঠকেও বিজয়কে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল।

বিজয় বর্তমানে কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন পেয়েছেন। বাকি পাঁচটি আসনের জন্য তিনি বামপন্থীদের চারটি, ভিসিকে দলের দুইটি এবং পিএমকে’র ৪টি আসনের ওপর নজর রাখছেন। এই সব দল পাশে দাঁড়ালে বিজয়ের সমর্থন সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৩-এ (বিজয় নিজে দুটি আসনে জেতায় একটি আসন ছাড়ার পর যা হবে ১২২)। কিন্তু সমস্যা হলো, ভিসিকে বর্তমানে বিজয়ের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু ডিএমকে’র সঙ্গে এবং পিএমকে তাঁর আদর্শিক শত্রু বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে। এই দলগুলো পুরোনো জোট ভেঙে বিজয়ের সঙ্গে আসবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।


বিকল্প হিসেবে এআইএডিএমকে’র ৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার একটি জল্পনা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, দলটির এক ডজনেরও বেশি বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিতে আগ্রহী এবং তাঁরা পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান করছেন। যদিও এআইএডিএমকে শীর্ষ নেতৃত্ব এই জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজয় নিজেও বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা এআইএডিএমকে’র সঙ্গে হাত মেলাতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত।

রাজ্যপালের অনড় অবস্থানের কারণে টিভিকে আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবছে। বিজয় অনুগামীরা প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। তবে পরিস্থিতি যদি আরও ঘোলাটে হয় এবং বিজয় যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভা স্থগিত করে রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তামিলনাড়ুকে আবার নতুন করে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।

বর্তমানে চেন্নাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মামাল্লাপুরামের একটি রিসোর্টে বিজয়ের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। রাজনীতির ময়দানে নতুন হলেও বিজয় যে ক্ষমতার এই ‘দাবার চাল’ বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন, তা তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণ ভারতের এই মেগাস্টার তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পরীক্ষায় কীভাবে পাশ করেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আরবিএস
ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়! মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপাতির ব্যক্তিগত স্টাফ হিসেবে এক জ্যোতিষীকে নিয়োগ দিয়ে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে...
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর সৌজন্যের এক বিরল ছবি দেখা গেল চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেটে। বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক একদিন পরেই প্রাক্তন...
তামিলনাড়ুর রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেই নিজের জাত চেনালেন থালাপাতি সি. জোসেফ বিজয়। আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি এমন কিছু ফাইলে সই করেছেন, যা তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একদিকে...
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েচেন থালাপাতি সি. জোসেফ বিজয়। গত চার দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা শেষে রোববার তিনি সোজা জানিয়ে দেন,...
২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নামে বড়ো অঙ্কের অর্থ লোপাট হয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে বর্তমান সরকার কোনো...
২০১৩ সালের পাঁচ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার কাছে জমা দেওয়া...
চলতি বছরের শুরুতে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘ফিনালিসিমা’- যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। কিন্তু ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক...
এবারের বিশ্বকাপে একদল ফুটবল ভক্তের অংকটা একদম পরিষ্কার ও সরল- আর্জেন্টিনা যার বিপক্ষেই খেলবে, সমর্থন করতে হবে সেই দলকেই! এই ‘অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা’ বা আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষী হিড়িকের চক্করে পড়ে ভক্তরা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর